একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার, অভিভাবকহীন বিধাননগরে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ!

একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার, অভিভাবকহীন বিধাননগরে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক অভিযোগে পুলিশের জালে জড়াচ্ছেন শাসকদলের নেতা-কর্মীরা। তোলাবাজি, হুমকি ও মারধরের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে বিধাননগর পুরসভার একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ অনুগামীরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। যার জেরে বিধাননগরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড বর্তমানে সম্পূর্ণ জনপ্রতিনিধিহীন হয়ে পড়েছে। ফলে পুর পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।

পরিষেবা বিভ্রাট ও ক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোটের পর কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতির কারণে বহু এলাকায় নাগরিক পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। নিয়মিত জঞ্জাল সাফাই, নিকাশি ব্যবস্থা কিংবা রাস্তার আলো রক্ষণাবেক্ষণের মতো রোজকার জরুরি কাজগুলো ঠিকঠাক হচ্ছে না। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর ছাত্র-ছাত্রীরা আরও বড় সমস্যায় পড়েছেন। বহু ক্ষেত্রে জরুরি নথির জন্য জনপ্রতিনিধিদের শংসাপত্র (সার্টিফিকেট) জোগাড় করতে শিক্ষার্থীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

যদিও এই প্রশাসনিক সংকট ও খামতির কথা মানতে নারাজ বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন, কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও পুরকর্মীরা নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সমস্ত পরিষেবার ওপর তিনি নিজে নজর রাখছেন।

গ্রেপ্তারের তালিকা ও এলাকা ছাড়ার হিড়িক

বিধাননগর পুরসভার রাজারহাট এবং সল্টলেক মিলিয়ে মোট ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল। সম্প্রতি সল্টলেকের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বরো চেয়ারম্যান এবং রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু ‘ঘনিষ্ঠ’ রঞ্জন পোদ্দারকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে রাজারহাটের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী ওরফে চিন্টু এবং কেষ্টপুরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপ্রতিনিধি সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেলও পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন।

অন্যদিকে, মহিষবাথানের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রবীর সর্দারের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি বেপাত্তা। দত্তাবাদের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলো দত্ত চিকিৎসার কারণে এলাকার বাইরে রয়েছেন। আবার রাজারহাটের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ নাগকেও এলাকায় ফেরার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল। শুধু কাউন্সিলররাই নন, মেয়র পারিষদ সদস্যদের ঘনিষ্ঠ একাধিক তৃণমূল কর্মীও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ায় বিধাননগর জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

একের পর এক জনপ্রতিনিধি ও দলীয় কর্মী গ্রেপ্তার এবং এলাকাছাড়া হওয়ার কারণে বিধাননগরের পুর প্রশাসন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের আহ্বান, যেসব কাউন্সিলররা এলাকা ছেড়ে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাঁরা দ্রুত ফিরে এসে মানুষের কাজে নামুন। শাসকদলের এই অভ্যন্তরীণ সংকট ও পুলিশের লাগাতার ধরপাকড়ের জেরে বিধাননগর পুর এলাকায় বর্তমানে এক থমথমে ও অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *