মার্কিন হামলার আশঙ্কায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য, এবার ঘরে ঘরে একে-৪৭ চালনা শিখছে ইরানের সাধারণ মানুষ

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার পারদ এবার চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারির পরপরই রণপ্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। তবে এবার শুধু দেশের সেনাবাহিনী নয়, সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসন রুখতে খোদ দেশের সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের আঙিনায় নামিয়েছে তেহরান। গৃহবধূ থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরী—সবার হাতেই এখন শোভা পাচ্ছে একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল।
সম্প্রতি ইরানের সরকারি গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত কিছু ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন ছোট-বড় মসজিদে সাধারণ মানুষকে অস্ত্র চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নিবিড় পাঠ দিচ্ছে দেশটির আধা সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)। সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের ছবিকে সামনে রেখে চলা এই প্রশিক্ষণ শিবিরে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মূলত একে-৪৭ রাইফেল, রকেট প্রপেলড গ্রেনেড (আরপিজি) এবং হ্যান্ড গ্রেনেড ব্যবহারের কৌশল শেখানো হচ্ছে এই স্বেচ্ছাসেবী নাগরিকদের।
গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অস্ত্রের সহজলভ্যতা
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান খুব হিসাব কষেই সাধারণ মানুষের জন্য একে-৪৭ রাইফেলটিকে বেছে নিয়েছে। ওজনে হালকা (সাড়ে তিন কেজি) এবং সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় নারী ও কিশোরদের জন্য এটি চালানো বেশ সুবিধাজনক। এছাড়া কাদা, জল বা বরফেও এই সোভিয়েত আমলের রাইফেলটি সমান কার্যকর এবং মিনিটে প্রায় ৬০০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, মার্কিন ফৌজ যদি ইরানের মাটিতে পা দিয়ে কোনো ‘গ্রাউন্ড অপারেশন’ বা স্থল অভিযান শুরু করে, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এক দীর্ঘমেয়াদি গেরিলা যুদ্ধে আমেরিকাকে নাস্তানাবুদ করাই তেহরানের মূল লক্ষ্য।
প্রতিশোধের আগুন ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াই
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গণ-প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো দেশবাসীর মনে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও প্রতিশোধস্পৃহা জাগিয়ে তোলা। কিছুদিন আগেই এক যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন এবং একটি স্কুলে বোমা হামলায় ১৫৩ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করছে প্রশাসন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্র শিক্ষার পাশাপাশি লাউডস্পিকারে কট্টরপন্থী ধর্মীয় বক্তব্য, মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ এবং নিহত নেতাদের প্রতি শোকজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমজনতার মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।
পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে যুদ্ধের দামামা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চলমান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই হুমকির জবাবে পিছপা হয়নি তেহরানও। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুদ্ধে ফিরলে ওয়াশিংটনকে বড়সড় চমক দেখাবে ইরান। ইতিমধ্যে আমেরিকার বহুমূল্য যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে দাবি করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সাবেক পারস্যের এই দেশ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।