সকাল ৯টার মধ্যেই ২০% পেরোল ভোট, ‘পুষ্পা’ উধাও! ফলতায় কার দিকে হাওয়া?

নতুন করে ভোটগ্রহণের সকালে ফলতায় এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক চিত্র দেখা গেল। অতীতের সমস্ত উত্তেজনা ও অশান্তির আবহ কাটিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে শান্তিতেই শুরু হয়েছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সকাল ৯টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২০.৪৭ শতাংশ। তবে ভোটের এই পরিসংখ্যানকেও ছাপিয়ে বড় আলোচনা তৈরি হয়েছে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’র রহস্যজনক অন্তর্ধান নিয়ে।
আতঙ্কের অবসান ও স্বস্তির ভোট
ফলতার স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের জন্য এই পুনর্নির্বাচন যেন এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অধিকার ফিরে পাওয়ার দিন। বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে তাঁরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দাদের সরাসরি অভিযোগ ছিল ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, জাহাঙ্গিরের অনুগামীরা সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতেই দিত না, এমনকি জোর করে হাতে কালি লাগিয়েও অনেককে বুথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো। তবে আজ সকাল থেকেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোনো রকম বাধা ছাড়াই ভোটাররা নির্বিঘ্নে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন।
ভোটের আগে নাটকীয় মোড় ও ‘পুষ্পা’র অন্তর্ধান
ফলতায় এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন এই জাহাঙ্গির খান। কিন্তু ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি আচমকাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। ততক্ষণে স্ক্রুটিনি ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় টেকনিক্যালি ইভিএম-এ তাঁর নাম ও জোড়াফুল প্রতীক রয়ে গেছে। কিন্তু ভোটের দিন সকালে ফলতার সেই ‘পুষ্পা’র আর কোনো দেখা মেলেনি। তাঁর বাড়ি এবং দলীয় কার্যালয়—উভয় জায়গাই সকাল থেকে তালাবন্ধ। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভোটের আগে শাসক দলের প্রার্থীর এভাবে ময়দান ছেড়ে দেওয়া এবং ভোটের দিন উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল প্রার্থীর এই পিছুটান এবং নিষ্ক্রিয়তার কারণে ভোট ময়দানে কার্যত ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার অবস্থায় চলে এসেছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। জাহাঙ্গিরের অনুপস্থিতি ও ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ফলতায় এবার শাসক শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামতে পারে, যার সরাসরি সুবিধা পেতে চলেছে পদ্ম শিবির।