নামের মিল কেড়েছে রাতের ঘুম, সেভেন ট্যাঙ্ক লেনের সাধারণ দম্পতির পাশে এখন শুধু বিভ্রান্তি আর হয়রানি!

উত্তর কলকাতার সিঁথি থানা এলাকার সেভেন ট্যাঙ্ক লেনের একটি সাধারণ ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তেজনা। এই ফ্ল্যাটের যৌথ মালিকদের নাম যথাক্রমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষ। কাকতালীয়ভাবে এই নাম দু’টি রাজ্যের প্রথম সারির দুই তৃণমূল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ায় চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এরপরই ওই দম্পতির বাড়ির ঠিকানা ও ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়, যার জেরে পুরো এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল হুলস্থূল।
সামাজিক মাধ্যমের অতিসক্রিয়তা ও জনহয়রানি
সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ওই সাধারণ মধ্যবিত্ত দম্পতির ব্যক্তিগত জীবন কার্যত বিপন্ন। কৌতুহলী প্রতিবেশীদের ভিড় জমানোর পাশাপাশি তাঁদের বাড়ির সামনে হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ও ইউটিউবাররা। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত সিঁথি থানা এবং স্থানীয় পুরসভার দ্বারে দ্বারে ছুটতে হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে। পেশায় চাকুরিজীবী এই দম্পতি জানান, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং গত তিন বছর ধরে এই ফ্ল্যাটে অত্যন্ত সাধারণ ও শান্তিময় জীবনযাপন করছেন।
তদন্ত ও সত্য প্রকাশ
ঘটনার সূত্রপাত পুরসভার সম্পত্তির খতিয়ান তদন্তের সময়। ১৯ডি, সেভেন ট্যাঙ্ক লেনের একটি যৌথ সম্পত্তির মালিক হিসেবে এই দুই নাম সামনে আসতেই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুর আধিকারিকরা ওই বাড়িতে পৌঁছালে দম্পতি তাঁদের পরিচয়পত্র, চাকরি ও সম্পত্তির সমস্ত বৈধ নথিপত্র পেশ করেন। নথিপত্র যাচাইয়ের পর পুর আধিকারিকরা নিশ্চিত হন যে এটি সম্পূর্ণ একটি নামের বিভ্রাট মাত্র। ভুক্তভোগী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজনৈতিক নেতার বাবার নামের সঙ্গে তাঁর বাবার নামের কোনো মিল নেই। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী সায়নী ঘোষ চাকরি করার কারণে বিয়ের পর নিজের পুরোনো পদবি পরিবর্তন না করায় এই বিভ্রান্তি আরও জোরালো রূপ নিয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও পরিবারের আর্জি
ব্যাঙ্কের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই দিয়ে চলা এই মধ্যবিত্ত পরিবারটির দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের দায়িত্বহীন প্রচারের কারণে বর্তমানে তাঁদের রাস্তায় বের হওয়া পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্য যাচাই না করে এভাবে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শান্তি বিঘ্নিত করার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে সাধারণ নাগরিকদের সাইবার হেনস্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ নিরপরাধ এই পরিবারটির এখন একটাই আর্জি, এটিকে কেবলই নামের বিভ্রান্তি হিসেবে দেখে যেন সবাই স্বাভাবিকতা বজায় রাখেন এবং তাঁদের শান্তিতে বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।