শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা আসাম্ভব! জটিলতা কাটাতে নতুন কৌশল তৃণমূলের

শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা অসম্ভব! জটিলতা কাটাতে নতুন কৌশল তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনি ও পদ্ধতিগত জটিলতা চরমে পৌঁছেছে। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হলেও, বিধানসভা সচিবালয় তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। নিয়মকানুনের মারপ্যাঁচে আপাতত আটকে গেছে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া।

নিয়মের বেড়াজাল ও সচিবালয়ের আপত্তি

বিধানসভা সচিবালয়ের স্পষ্ট বার্তা, প্রতিষ্ঠিত নিয়ম না মেনে একতরফাভাবে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করা ‘আসাম্ভব’। নিয়ম অনুযায়ী, তৃণমূলের নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়ককে সম্মিলিতভাবে বৈঠকে বসে তাদের নেতা নির্বাচন করতে হবে এবং সেই দলীয় সভায় গৃহীত প্রস্তাবের একটি অনুলিপি সচিবালয়ে জমা দিতে হবে। দলীয় সংগঠন একক সিদ্ধান্তে এই পদে কাউকে বসাতে পারে না।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মুখ্য সচিব সৌমেন্দ্র নাথ দাস এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানান, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হলেও তাতে কোনো তারিখ ছিল না। এমনকি বিধায়কদের কোনো সম্মতিপত্র বা স্বাক্ষরও সেখানে সংযুক্ত করা হয়নি। ২০১১, ২০১৬ বা ২০২১ সালের নির্বাচনে এই ধরনের কোনো জটিলতা তৈরি না হলেও, এবার পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে অভিষেকের পাঠানো ওই চিঠিকে বৈধতা দেওয়া যাচ্ছে না বলে সচিবালয় নিশ্চিত করেছে। এই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু জানিয়েছেন, সংসদীয় দলটিকে সভার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই নিয়োগ চূড়ান্ত হবে।

দলীয় রণকৌশল ও সম্ভাব্য প্রভাব

সচিবালয়ের এই প্রত্যাখ্যানের পর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও, তৃণমূল কংগ্রেস পিছু হটতে নারাজ। দলীয় সূত্রে খবর, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই বিধানসভায় দলের নেতা হিসেবে ধরে রাখা হচ্ছে। আইনি জটিলতা কাটাতে তৃণমূল বিধায়করা এখন প্রোটোকল মেনে যৌথ স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি বিধানসভার সচিবের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

একই সঙ্গে, এই পদ্ধতিগত অচলাবস্থার আসল কারণ ও অতীত দৃষ্টান্ত খতিয়ে দেখতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং স্বয়ং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পূর্ববর্তী বিধানসভা অধিবেশনগুলির বিরোধীদলীয় নেতা নিয়োগের প্রক্রিয়া জানতে চেয়ে আরটিআই (RTI) আবেদন দাখিল করেছেন। আইনসভার এই টানাপোড়েনের জেরে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংসদীয় লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *