দশ বছরের জট কাটল মাত্র দুই সপ্তাহে, সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফকে জমি দিল রাজ্য

দশ বছরের জট কাটল মাত্র দুই সপ্তাহে, সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফকে জমি দিল রাজ্য

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় এক নজিরবিহীন ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দফায় ২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফের হাতে ৪৩ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। ভারতের সাথে বাংলাদেশের মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে ২,২১৬ কিলোমিটার, যার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় ছিল।

জাতীয় নিরাপত্তা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত

২০১৬ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে জমি চেয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সেই প্রক্রিয়াটি থমকে ছিল। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটানো হলো। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৬০০ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে ৫৫৫ কিলোমিটার এলাকায় বিগত সরকারের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে জমি দেওয়া হয়নি। এবার সেই অচলাবস্থা ভেঙে সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই জমি অধিগ্রহণের সম্পূর্ণ অর্থ বহন করছে ভারত সরকার।

অনুপ্রবেশ রোধ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সীমান্তকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অরক্ষিত সীমান্তকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, বেআইনি অনুপ্রবেশ ও দেশবিরোধী কার্যকলাপের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। বিএসএফের হাতে এই জমি আসায় দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এই বিষয়ে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাজ্য সরকারের এই দ্রুত ও পূর্ণ সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে নিচ্ছিদ্রভাবে সুরক্ষিত করার জন্য এটি একটি অত্যন্ত জরুরি ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা সীমান্তের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আনবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *