সাড়ে ৭ গুণ পেনশন বৃদ্ধির খবর কি শুধুই গুজব, সত্যতা প্রকাশ করল ইপিএফও

অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি চাকরিজীবীদের ন্যূনতম পেনশন সাড়ে ৭ গুণ বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা থেকে ৭,৫০০ টাকা করা হয়েছে— সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এমন একটি খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছিল, ১ মে, ২০২৬ থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এই খবরে লক্ষ লক্ষ পেনশনভোগীর মনে আশার আলো দেখা দিলেও, শেষ পর্যন্ত এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) আসল সত্যটি সামনে এনেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, পেনশন বৃদ্ধির এই খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো।
গুজবের উৎস ও ভাইরাল হওয়া সেই চিঠি
কিছুদিন আগে পেনশনভোগীদের পক্ষ থেকে ইপিএস-৯৫ (EPS-95) প্রকল্পের অধীনে ন্যূনতম পেনশন ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭,৫০০ টাকা করার একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। এই প্রস্তাবের সূত্র ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তি বা চিঠি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের পর সমস্ত পেনশনভোগীর জন্য এই বর্ধিত হার কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই খবরে প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছিল।
ইপিএফও-র স্পষ্টীকরণ ও বর্তমান নিয়ম
বিভ্রান্তি দূর করতে ইপিএফও তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি বিবৃতি জারি করেছে। সংস্থাটি জানায়, ভাইরাল হওয়া চিঠিটি সম্পূর্ণ জালিয়াতি। পেনশন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সেই সাথে সাধারণ মানুষকে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে শুধুমাত্র ইপিএফও-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও নির্ভরযোগ্য উৎসের ওপর ভরসা রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সংগঠিত খাতের যেসব কর্মচারীর চাকরিতে যোগদানের সময় মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা ছিল এবং যেখানে ২০ বা তার বেশি কর্মী কাজ করেন, তারা এই ইপিএস-৯৫ প্রকল্পের আওতায় পড়েন। বর্তমানে এই নিয়মে প্রতি মাসে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা পেনশন দেওয়া হয়। কর্মচারীর মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার (DA) ৮.৩৩ শতাংশ (সর্বোচ্চ ১,২৫০ টাকা) প্রতি মাসে এই তহবিলে জমা হয়, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে অবসরের পর পেনশন নির্ধারিত হয়।