ভোটের আগেই বড় ধাক্কা! ফলতা থেকে সরে দাঁড়াতেই জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য?

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। নির্বাচনী লড়াই থেকে জাহাঙ্গির নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরপরই তাঁর আইনি রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। তবে আদালত এখনই রাজ্যের সেই আবেদনে সাড়া না দিয়ে আগামী ২৬ মে পর্যন্ত জাহাঙ্গিরের রক্ষাকবচ বহাল রেখেছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট মেয়াদের পর আদালত এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করে দেখবে।
আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের আবেদন রাজ্যের
পুরনো ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে এর আগে আদালতের কাছ থেকে গ্রেফতারি বা কোনো কড়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা। আদালতের যুক্তি ছিল, ভোটের প্রার্থী হওয়ার কারণেই তাঁকে এই স্বস্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে জাহাঙ্গির আচমকা লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করতেই পাশা উল্টে যায়। বুধবার হাইকোর্টে রাজ্যের আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় সওয়াল করেন, যেহেতু জাহাঙ্গির আর নির্বাচনী ময়দানে নেই, তাই তাঁর এই আইনি সুরক্ষার সুবিধা বজায় রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আদালত রাজ্যের এই বক্তব্য শুনলেও ২৬ মে পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি বজায় রেখেছে।
রাজনৈতিক ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খানের এই ‘আত্মসমর্পণ’ শাসক দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ভোট ছাড়ার পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করায় জাহাঙ্গিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা জরুরি দলীয় বৈঠকে বিধায়কদের একাংশ জাহাঙ্গিরকে দল থেকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি তুলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাহাঙ্গিরের অন্তত একবার অভিষেকের সাথে কথা বলা উচিত ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের মুখে প্রার্থীর এমন আকস্মিক দলবদলু মনোভাব বা নিষ্ক্রিয়তা ফলতার নির্বাচনী সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক ঐক্যেও।