সই নেই, তারিখও উধাও! কেন ঝুলে তৃণমূলের বিরোধী দলের মর্যাদা? খোলসা করলেন বিধানসভার সচিব

রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসকে এখনও কেন বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক চাপানউতরের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাস। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের পাঠানো আবেদনপত্রে কিছু গুরুতর আইনি ও পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকার কারণেই এই স্বীকৃতি প্রক্রিয়াটি আটকে রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক ঘোষণা করা হলেও, প্রস্তাব পাসের সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং বিধায়কদের প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সেখানে ছিল না।
পদ্ধতিগত ত্রুটি ও স্পিকারের নির্দেশ
সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, চিঠিতে ত্রুটি ধরা পড়ার পরপরই বিষয়টি বিধানসভার অধ্যক্ষের নজরে আনা হয়। এরপরই অধ্যক্ষ পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন এবং নিয়ম অনুযায়ী যে সমস্ত বিধায়করা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দলনেতা নির্বাচিত করেছেন, তাঁদের স্বাক্ষর সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র সচিবালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে বুধবার পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষ থেকে এমন কোনো সংশোধিত নথি বা প্রস্তাবপত্র জমা পড়েনি বলেই জানিয়েছেন সচিব। এই প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিধানসভায় দলটির বিরোধী হিসেবে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ থমকে গেছে।
পাল্টা ক্ষোভ ও সমাধানের তৎপরতা
প্রশাসনিক এই আপত্তির জেরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, অধিবেশনে যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ও তিনি নিজে বিরোধী দলনেতা হিসেবে অধ্যক্ষকে হাত ধরে চেয়ারে বসিয়েছেন, সেখানে এমন আচরণ কেন করা হচ্ছে? যদিও সচিবের সাফ কথা, বিধানসভায় সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী অধ্যক্ষ এবং তিনি যে কোনো বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য চাইতেই পারেন। এই জটিলতা কাটাতে ইতিমধ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তৎপর হয়েছে এবং কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে হওয়া বৈঠকে বিধানসভা সচিবালয়কে সমস্ত নিয়ম মেনে নতুন করে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, নতুন চিঠি জমা পড়লেই এই আইনি জট কেটে যাবে।
এক ঝলকে
- তৃণমূলের পাঠানো চিঠিতে প্রস্তাব পাসের তারিখ ও বিধায়কদের স্বাক্ষর না থাকায় আটকে গেছে বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়া।
- বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাস জানিয়েছেন, নিয়মানুযায়ী বিধায়কদের স্বাক্ষরসহ নতুন প্রস্তাবপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অধ্যক্ষ।
- এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
- জটিলতা কাটাতে কালীঘাটের বৈঠকের পর বিধানসভা সচিবালয়কে সমস্ত তথ্যসহ নতুন চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।