নিরাপত্তার চাদরে মোড়া ফলতা, আগের ক্ষত ধুয়ে ২৮৫ বুথেই চলছে পুনর্নির্বাচন!

গত দফার ভোটে যে বেনজির অশান্তি আর কারচুপির সাক্ষী হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র ফলতা, তার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ফলতা বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচন। আগের দফার অনিয়মের ক্ষত ঢাকতে এবার সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সূচি অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটাররা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
গত ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের সময় দেদার কারচুপি এবং ইভিএমের সঙ্গে কারসাজির ভুরিভুরি অভিযোগ সামনে এসেছিল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত বুথেই নতুন করে ভোট নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোট লুটের সেই সমস্ত অভিযোগকে মান্যতা দিয়েই কমিশন পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে আজ নতুন করে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল।
কমিশনের নজিরবিহীন কড়াকড়ি
ফলতার মোট ২৮৫টি বুথেই আজ নতুন করে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এই ২৮৫টি বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে মোট ৩৫ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী (সিএপিএফ)। এবার প্রতিটি বুথে অন্তত এক সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে, যা গত দফার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ভোট প্রক্রিয়ায় যাতে বিন্দুমাত্র স্বচ্ছতার অভাব না থাকে, তার জন্য সবকটি বুথেই চলছে লাইভ ওয়েব কাস্টিং। প্রতিটি বুথের ভেতরের ও বাইরের প্রতি মুহূর্তের গতিবিধির ওপর সরাসরি নজর রাখছে দিল্লির নির্বাচন সদন এবং কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।
রাজনৈতিক সমীকরণে বদল
আজকের এই বহু প্রতীক্ষিত পুনর্নির্বাচনের ঠিক মুখেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা জাহাঙ্গীর খান আচমকা ঘোষণা করেছেন যে, ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তি রক্ষা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে তিনি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
আগের দফার ভোট নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা মাথায় রেখে আজ প্রশাসন কোনওরকম খামতি রাখতে নারাজ। কড়া পাহারার কারণে সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। এই হেভিওয়েট পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনা সম্পন্ন হবে আগামী ২৪ মে।