গায়ের রঙ কালো হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন, ছাদ থেকে পড়ে গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু!

গায়ের রঙ কালো হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন, ছাদ থেকে পড়ে গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু!

পশ্চিম দিল্লির ইন্দ্রপুরী এলাকায় তিন তলা বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে বীণা নামের এক তরুণী গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে চরম রহস্য। মৃতার পরিবারের স্পষ্ট দাবি, যৌতুকের লোভ এবং গায়ের রঙ নিয়ে লাগাতার কটাক্ষের জেরে তাঁকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমিধ্যেই মৃতার স্বামী ও দেওরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বর্বর মানসিক নির্যাতন ও নির্মম পরিণতি

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে রাজু নামের এক যুবকের সঙ্গে বীণার বিয়ে হয়েছিল। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন নানা অজুহাতে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। বিশেষ করে বীণার গায়ের রঙ কালো হওয়া নিয়ে দেওর ও স্বামী নিয়মিত কটাক্ষ ও মারধর করত বলে অভিযোগ।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের দিদিকে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বীণা। ফোনে তিনি জানিয়েছিলেন যে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে। এমনকি নিজের ছয় মাসের সন্তানকে দেখে রাখার আকুতি জানিয়ে বীণা বলেছিলেন, “আজকের পর হয়তো আর তোমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারব না।” এর কিছুক্ষণ পরেই শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয়, বীণা ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্তে পুলিশ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ঘটনার পর বীণার পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হলে পশ্চিম দিল্লি পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে মৃতার স্বামী ও এক দেওরকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে মহকুমা শাসক (এসডিএম) পুরো বিষয়টির তদন্ত করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পরই স্পষ্ট হবে এটি আত্মহত্যা নাকি খুন।

এই ঘটনাটি সমাজে আজও টিকে থাকা বর্ণবৈষম্য এবং যৌতুকলোভী মানসিকতার এক নির্মম বহিঃপ্রকাশ। বিয়ের এত বছর পরেও গায়ের রঙের মতো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে একজন গৃহবধূকে যেভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হলো, তা সামাজিক সুরক্ষাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমাজে এমন পারিবারিক সহিংসতার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *