কল্যাণী এইমসে অত্যাধুনিক লেজার চিকিৎসা, উত্তরবঙ্গেও নতুন হাসপাতালের ইঙ্গিত শমীকের

পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা পরিষেবা ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। কল্যাণী অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো অত্যাধুনিক ‘সিওটু লেজার ইউনিট’ (CO2 Laser Unit)। বুধবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই নতুন ইউনিটের উদ্বোধন করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এবং কল্যাণী এইমসের ডিরেক্টর ড. অরবিন্দ সিনহা। এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া তাদের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) তহবিল থেকে এই অত্যাধুনিক ইউনিটটি গড়ে তুলতে বিশেষ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
এই নতুন প্রযুক্তি চালু হওয়ার ফলে রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক বড়সড় বদল আসতে চলেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই অত্যাধুনিক লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে এখন থেকে ত্বকের জটিল দাগ, গভীর ক্ষত, মাংসপিণ্ডের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা টিউমার অপসারণ এবং নাকের অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্ম রিপেয়ার সার্জারি অনেক বেশি নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হবে। ফলে রোগীরা উন্নতমানের ও ঝুঁকিমুক্ত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন, যা এতদিন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।
উত্তরবঙ্গে নতুন এইমসের পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কার
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে কেন্দ্রের বড় পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, কল্যাণীর পর এবার উত্তরবঙ্গেও আরও একটি নতুন এইমস গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ এইমস তৈরি করে তার সমস্ত পরিষেবা সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ চালু করতে সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছর সময় লেগে যায়। নির্বাচনের আগে দেওয়া স্বাস্থ্যোন্নতির প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, চিকিৎসকদের ওপর থেকে রাজনৈতিক চাপ ও শাস্তিমূলক বদলির সংস্কৃতি দূর করে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে।
রাজ্যের উন্নয়ন ও সমসাময়িক রাজনীতি
অনুষ্ঠান শেষে সাংসদ রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। পশ্চিমবঙ্গকে শিল্প, সংস্কৃতি ও প্রগতির ক্ষেত্রে পুনরায় বিশ্বমঞ্চের শীর্ষে নিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি দাবি করেন। এই লক্ষ্যে অনাবাসী ভারতীয়দেরও বাংলায় বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পঞ্চায়েত স্তরে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও মুখ খোলেন শমীক ভট্টাচার্য। বিভিন্ন পঞ্চায়েত প্রধানদের পদত্যাগের ঘটনার দায় সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ওপর চাপিয়ে তিনি বলেন, এতে বিরোধীদের কোনো ভূমিকা নেই। একই সঙ্গে সুস্থ গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ না থাকলে গ্রামীণ ও নগর উন্নয়নের প্রকৃত ও সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।