রাজীবের শোকের দিনেই ঘুচল ৫৯ বছরের খরা, তামিলনাড়ুর মন্ত্রিসভায় ফিরছে হাত শিবির!

রাজীবের শোকের দিনেই ঘুচল ৫৯ বছরের খরা, তামিলনাড়ুর মন্ত্রিসভায় ফিরছে হাত শিবির!

২১ মে তারিখটি ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ১৯৯১ সালের এই অভিশপ্ত দিনেই তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুমপুদুরে এলটিটিই জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। প্রতি বছর এই দিনটিকে গভীর শোকের সাথে স্মরণ করে কংগ্রেস। তবে ২০২৬ সালের এই নির্দিষ্ট দিনটি তামিলনাড়ু কংগ্রেসের জন্য একই সাথে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক মোড় ঘোরানোর সাক্ষী হয়ে রইল। দীর্ঘ ৫৯ বছর পর দক্ষিণের এই রাজ্যের মন্ত্রিসভায় পুনরুত্থান ঘটছে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলের।

রাজ্যের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে সরকারের পতনের পর তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। অভিনেতা বিজয়ের দল ‘টিভিকে’-কে সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে নতুন মন্ত্রিসভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে চলেছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার রাজভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন কংগ্রেসের দুই বিধায়ক এস রাজেশ কুমার এবং পি বিশ্বানাথন। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের মাত্র পাঁচ জন প্রার্থী জয়ী হলেও, কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই বড় সাফল্য পেয়েছে দলটি।

ঐতিহাসিক খরা ও ক্ষমতার নতুন সমীকরণ

স্বাধীনতার পর তৎকালীন মাদ্রাজ রাজ্যে ১৯NT২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত একচ্ছত্র ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। সি রাজাগোপালাচারী, কে কামরাজ এবং এম ভক্তবৎসলমের মতো হেভিওয়েট নেতারা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্য পরিচালনা করেছেন। তবে ১৯৬৭ সালে ডিএমকে-র কাছে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে বিগত প্রায় ছয় দশক ধরে তামিলনাড়ুর মসনদ আঞ্চলিক দলগুলোর হাতেই বন্দি ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে ডিএমকে বা এআইএডিএমকে-র সাথে একাধিকবার জোট করলেও কংগ্রেস কখনই মন্ত্রিসভায় জায়গা পায়নি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৮৪ এবং ১৯৯১ সালে ৬০টি আসনে জয়ী হয়েও কংগ্রেস মন্ত্রিসভার বাইরে ছিল। এমনকি ২০০৬ সালে ৩৪ জন বিধায়ক নিয়ে ডিএমকে-র সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দেওয়া কিংবা ২০২১ সালে ১৮ জন বিধায়ক থাকার পরেও ক্ষমতার অংশীদার হতে পারেনি তারা। ফলে মাত্র ৫ জন বিধায়ক নিয়ে দুই মন্ত্রিত্বের এই প্রাপ্তি কংগ্রেস শিবিরের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক জয়।

উদযাপনের দ্বিমুখী আবহ এবং প্রভাব

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ু কংগ্রেসের অন্দরে এখন দ্বিমুখী আবহ। একদিকে শ্রীপেরুমপুদুরে রাজীব গান্ধীর সমাধিস্থলে চলছে রাজ্য নেতাদের শোক জ্ঞাপন ও শ্রদ্ধা নিবেদন, অন্যদিকে রাজভবনে চলছে নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি। অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল, রাজ্য নেতা দীনেশ গুণ্ডুরাও এবং কীর্তি চিদম্বরমের মতো শীর্ষ নেতারা এই ঘটনাকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কংগ্রেসের নতুন যুগের সূচনা বলে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পটপরিবর্তন আগামী দিনে তামিলনাড়ুর আঞ্চলিক রাজনীতিতে জাতীয় দল হিসেবে কংগ্রেসের দর কষাকষির ক্ষমতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *