সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ, এবার মানতে হবে সিভিসির নির্দেশিকা!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বড়সড় রদবদল ও সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রাজ্যের সরকারি কেনাকাটা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে অর্থদপ্তর। এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসকে কেন্দ্রীয় সতর্কতা কমিশন বা সিভিসি (CVC)-এর গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এই বিষয়ে অর্থদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।
কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও নতুন নিয়ম
অর্থদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যে সরকারি পণ্য, পরিষেবা এবং বিভিন্ন নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে আগে থেকেই নির্দিষ্ট আর্থিক বিধি ও নির্দেশিকা জারি রয়েছে। এমনকি কেনাকাটার প্রক্রিয়াকে নিয়মের মধ্যে রাখতে ‘জিইএম’ (GeM) প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও ঢেলে সাজাতে এবং আর্থিক লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার কেন্দ্রীয় সতর্কতা কমিশনের গাইডলাইনকে যুক্ত করা হলো। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রায়শই স্বজনপোষণ, দুর্নীতি এবং অপচয়ের অভিযোগ ওঠে। এই সিদ্ধান্ত মূলত সেই সমস্ত ফাঁকফোকর বন্ধ করার একটি সুনির্দিষ্ট প্রয়াস। কেন্দ্রীয় সিভিসি-এর কড়া গাইডলাইন অনুসরণের ফলে সরকারি স্তরে টেন্ডার বা কেনাকাটার প্রক্রিয়া আরও বেশি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক হবে। এর ফলে একদিকে যেমন যোগ্য সংস্থাসমূহ কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাবে, অন্যদিকে সরকারি তহবিলের অপচয় রোধ হবে। সামগ্রিকভাবে, নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।