জ্বর-প্রেগন্যান্সি নিয়েই ১৩ ঘণ্টার শুটিং! ‘দোলা রে’-র সময় ঠিক কী সহ্য করেছিলেন মাধুরী?

ভীষণ জ্বর এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও ১৩ ঘণ্টার একটানা শুটিং! রূপালি পর্দার পেছনের এই অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই জন্ম নিয়েছিল বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা নৃত্যশৈলী ‘দোলা রে দোলা’। সঞ্জয় লীলা বনসালির ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রের এই কালজয়ী গানের নেপথ্যে রয়েছে মাধুরী দীক্ষিত এবং কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের চরম পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগের এক অনন্য রূপকথা।
শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করে নিখুঁত পারফরম্যান্স
‘দোলা রে’ গানের শুটিংয়ের সময় মাধুরী দীক্ষিত কেবল শারীরিক ক্লান্তি বা জ্বরেই ভুগছিলেন না, তিনি তখন একই সাথে অন্তঃসত্ত্বাও ছিলেন। গানের একটি বিশেষ দৃশ্যে অনবরত ঘুরে মাটিতে বসে পড়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। ক্রমাগত ঘুরপাক খাওয়ার কারণে তীব্র মাথা ঘোরা সত্ত্বেও মাধুরী কাজ থামাননি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে চলেছিল সেই নির্দিষ্ট দৃশ্যের শুটিং। কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের তৈরি কঠিন নাচের মুদ্রা সহজ করার কোনো অনুরোধ তিনি করেননি, বরং প্রতিটি এক্সপ্রেশন ও পায়ের স্টেপ নিখুঁত করতে নিজের সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়েছিলেন।
দুই অসুস্থ মহারথীর জেদ ও কালজয়ী সৃষ্টি
এই গানটির পেছনে শুধু মাধুরী নন, কোরিওগ্রাফার সরোজ খানও লড়েছেন নিজের অসুস্থতার সাথে। শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন না, ফলে সেটের মেঝেতে শুয়েই তিনি পুরো কোরিওগ্রাফি পরিচালনা করেন। ক্যামেরার সামনে আসার আগে মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ রিহার্সাল করেছিলেন এবং মূল গানটির শুটিং চলেছিল টানা ১৭ দিন ধরে।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, সৃষ্টির প্রতি এই চরম নিষ্ঠাই ‘দোলা রে দোলা’ গানটিকে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখেও শিল্পীদের এই আপসহীন মনোভাবই প্রমাণ করে যে, কেন বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে মাধুরী-সরোজ জুটি আজও অনন্য এবং কেন এই গানটি দশকের পর দশক ধরে দর্শকদের মনে সমানভাবে দাগ কেটে চলেছে।