মাঝরাতে রক্তাক্ত রাজধানী, ঘরে ঢুকে মা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন

মাঝরাতে রক্তাক্ত রাজধানী, ঘরে ঢুকে মা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন

দেশের রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির গোবিন্দপুরী এলাকায় নিজের বাড়ির ভেতরেই নৃশংসভাবে খুন হলেন এক গৃহবধূ ও তাঁর কিশোর ছেলে। বুধবার গভীর রাতে গলি নম্বর ১০ এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মৃতদের নাম শারদা সাহু (৩৮) এবং তাঁর ১৩ বছর বয়সী ছেলে, যে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢুকে বাধা পেয়েই এই জোড়া খুন চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শারদার স্বামী বিষ্ণু সাহু পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা। বিভিন্ন সাপ্তাহিক বাজারে দোকান দিয়ে বুধবার গভীর রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি বাড়ি ফেরেন। বাড়ির সামনের দরজা বাইরে থেকে আটকানো দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। ভেতরে ঢুকতেই তিনি স্ত্রী ও সন্তানের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গোবিন্দপুরী থানার পুলিশ এবং ফরেন্সিক দল। মৃতদেহের শরীরে একাধিক ছুরির আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।

তদন্তে ডাকাতির তত্ত্ব ও চুরির উদ্দেশ্য

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ঘরের আলমারি খোলা অবস্থায় ছিল এবং বাড়ি থেকে বেশ কিছু নগদ টাকা ও সোনার গয়না উধাও হয়েছে। এই প্রমাণ সূত্র ধরেই পুলিশের অনুমান, মূল লক্ষ্য ছিল ডাকাতি। মাঝরাতে ফাঁকা বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হানা দিলে মা ও ছেলে সম্ভবত তাদের চিনে ফেলে বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। আর সেই কারণেই প্রমাণ লোপাট করতে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও আতঙ্ক

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দিল্লির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কঙ্কালসার রূপটি আবারও সামনে এনে দিয়েছে। দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, বরং একের পর এক হিংসাত্মক অপরাধে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক খুনের ঘটনায় দিল্লিবাসীর মনে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় মাঝরাতে ঘরে ঢুকে এমন হত্যাকাণ্ডের জেরে সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আপাতত পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে খুন ও চুরির মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা পূর্বশত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল। তবে ঘটনার বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *