অবসরকালীন সঞ্চয়ে বড় চমক, ২০২৬ থেকে জমানো টাকার ৮০ শতাংশই মিলবে এককালীন নগদ!

অবসরকালীন সঞ্চয়ে বড় চমক, ২০২৬ থেকে জমানো টাকার ৮০ শতাংশই মিলবে এককালীন নগদ!

দেশের অবসরকালীন সঞ্চয় প্রকল্পে বড়সড় সংস্কার আনল পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA)। ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হতে চলা এই নতুন নিয়মে কোটি কোটি চাকুরিজীবী তাঁদের জমানো টাকার ওপর অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ পাবেন। মূলত বেসরকারি বা কর্পোরেট ক্ষেত্রের কর্মীদের অবসর পরবর্তী সময়ে নগদের জোগান নিশ্চিত করতেই এই আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান যুগের গতিশীল কর্মসংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে পেনশনের এই নতুন ধাঁচা বেসরকারি কর্মীদের কাছে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা এনপিএস-কে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

বেসরকারি কর্মীদের জন্য নিয়ম শিথিল

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মীরা এখন থেকে তাঁদের সঞ্চিত অর্থের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন করমুক্ত নগদ হিসেবে তুলে নিতে পারবেন, যা আগে ছিল সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ, এখন পেনশনের জন্য মাত্র ২০ শতাংশ টাকা জমা রাখলেই চলবে। এর পাশাপাশি কমছে বিনিয়োগের ‘ভেস্টিং পিরিয়ড’-ও। এখন মাত্র ১৫ বছর বিনিয়োগ করলেই বা ৬০ বছর বয়স হলে (যেটি আগে হবে) প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। একই সাথে আগের পাঁচ বছরের বাধ্যতামূলক ‘লক-ইন’ পিরিয়ডও সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে জানানো হয়েছে, মোট সঞ্চয় ৮ লক্ষ টাকার নিচে হলে পুরো ১০০ শতাংশ টাকাই এককালীন তুলে নেওয়া যাবে। আর সঞ্চয় ৮ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকার মধ্যে হলে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদ মিলবে এবং বাকি টাকা পরবর্তী ছয় বছর ধরে কিস্তিতে বা সাধারণ পেনশন হিসেবে নেওয়া যাবে।

সরকারি কর্মীদের বিনিয়োগে বাড়তি সুবিধা

সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নগদ ও পেনশনের অনুপাত ৬০:৪০ অপরিবর্তিত থাকলেও, বিনিয়োগের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এখন ৭৫ বছরের পরিবর্তে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত টাকা বিনিয়োগ করে রাখা যাবে। এর ফলে অবসর গ্রহণের পর আরও এক দশক চক্রবৃদ্ধি হারের সুবিধা বা ‘কম্পাউন্ড গ্রোথ’ পাওয়ার সুযোগ পাবেন সরকারি কর্মীরা, যা তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষাকে আরও মজবুত করবে।

তবে সময়ের আগে বা মেয়াদের আগে যদি কেউ প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যেতে চান, তবে নিয়ম আগের মতোই কড়া থাকছে। সে ক্ষেত্রে জমানো টাকার ৮০ শতাংশ দিয়েই পেনশন পলিসি বা অ্যানুইটি কিনতে হবে। তবে জমানো মোট টাকার অঙ্ক ৫ লক্ষের কম হলে পুরো টাকা তুলে নেওয়ার অনুমতি মিলবে। সামগ্রিকভাবে এই ঐতিহাসিক সংস্কারের ফলে চাকরিজীবীদের হাতে অবসরের পর এককালীন মোটা অঙ্কের নগদ আসার পথ সুগম হলো, যা তাঁদের তাৎক্ষণিক বড় খরচ বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড়সড় স্বস্তি দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *