নতুন এসি কিনেও মিলছে না স্বস্তি, অজান্তেই কি করে বসছেন মস্ত বড় ভুল?

তীব্র দাবদাহে নাজেহাল বঙ্গবাসীর জীবনে এসি এখন বিলাসিতা নয়, বরং অন্যতম প্রধান ভরসা। জ্যৈষ্ঠের এই অসহ্য গরম থেকে বাঁচতে অনেকেই তড়িঘড়ি দোকান থেকে নতুন এসি কিনে আনছেন। কিন্তু শখ করে নামী ব্র্যান্ড আর স্টার রেটিং দেখে এসি কেনার পরও দেখা যাচ্ছে, কিছুদিন যেতে না যেতেই বিকল হয়ে পড়ছে সেই যন্ত্র। ঘর ঠান্ডা হওয়া তো দূরের কথা, মাঝগরমে এসি বন্ধ হয়ে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসি কেনার সময় একটি বিশেষ বিষয়ে নজর না দেওয়াই এই ভোগান্তির মূল কারণ।
দোকানে গিয়ে বেশিরভাগ ক্রেতাই বিক্রেতাদের কথায় শুধু ব্র্যান্ড এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের রেটিং দেখেন। কিন্তু এসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ অর্থাৎ ‘কন্ডেন্সার কয়েল’ কী ধাতু দিয়ে তৈরি, তা অনেকেই খতিয়ে দেখেন না। বাজারে মূলত দুই ধরনের কয়েল পাওয়া যায়— কপার (তামা) এবং অ্যালুমিনিয়াম। এই কয়েলের গুণগত মানের পার্থক্যের কারণেই মূলত নতুন এসি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
কপার বনাম অ্যালুমিনিয়াম কয়েলের লড়াই
ঘর ঠান্ডা করার কার্যক্ষমতার দিক থেকে কপার কয়েল অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তামার তাপ পরিবাহিতা বেশি হওয়ায় এটি দ্রুত ঘর ঠান্ডা করতে পারে, যেখানে অ্যালুমিনিয়াম কয়েল কিছুটা বেশি সময় নেয়। স্থায়িত্বের দিক থেকেও তামা অত্যন্ত মজবুত ধাতু। ফলে বছরের পর বছর এটি নির্বিঘ্নে চলতে পারে। অন্যদিকে অ্যালুমিনিয়াম বেশ নরম হওয়ায় সামান্য চাপেই লিক হয়ে যাওয়ার বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা মাঝগরমে হুট করে এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ।
সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে। কপার কয়েল কোনো কারণে লিক হলে সামান্য খরচে গ্যাস ওয়েল্ডিং করে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু অ্যালুমিনিয়ামের কয়েল বিগড়ে গেলে তা জোড়াতালি দেওয়া যায় না, সম্পূর্ণ কয়েলটিই বদলে ফেলতে হয়। যদিও শুরুতে অ্যালুমিনিয়াম কয়েলের এসির দাম ও ওজন তুলনামূলকভাবে কম হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি পকেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
ভুল সিদ্ধান্তের আর্থিক ও মানসিক প্রভাব
সামান্য টাকা বাঁচানোর চক্করে সস্তার অ্যালুমিনিয়াম কয়েলের এসি কিনলে পরবর্তীতে তা বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বারবার মেরামত করার খরচ দীর্ঘমেয়াদে আসল দামকেও ছাড়িয়ে যায়। তাই সাময়িক ব্যবহার বা ভাড়া বাড়ির জন্য অ্যালুমিনিয়াম চলনসই হলেও, দীর্ঘস্থায়ী আরাম ও নিশ্চিন্তির জন্য কপার কয়েলের এসি কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। কন্ডেন্সার কয়েল চেনার ক্ষেত্রে সামান্য অসচেতনতা ক্রেতাদের যেমন আর্থিক লোকসানের মুখে ফেলছে, তেমনই চরম গরমে ডেকে আনছে চরম মানসিক ভোগান্তি।