পাক অধিকৃত কাশ্মীরে খতম পুলওয়ামা হামলার মূলচক্রী, নেপথ্যে কারা?

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। সেই আত্মঘাতী হামলার অন্যতম মূলচক্রী তথা শীর্ষ জঙ্গি কমান্ডার হামজা বুরহান এবার খতম হলো পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। জানা গেছে, মুজাফ্ফরবাদে একদল অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাকে লক্ষ্য করে আচমকা পরপর গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ‘ডাক্তার’ নামে পরিচিত এই হামজার আসল নাম আরজুমান্দ গুলজার দার। ২০২২ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
যেভাবে গড়ে উঠেছিল হামজার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক
পুলওয়ামার রত্নীপোরা এলাকার খারবাতপোরায় জন্ম নেওয়া হামজা উচ্চশিক্ষার অজুহাতে পাকিস্তানে পাড়ি দিয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে লিপ্ত হয় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে এবং কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন ‘আল-বদর’-এ যোগ দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সে এই সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডার পদে উন্নীত হয়। এরপর জম্মু-কাশ্মীরে ফিরে এসে স্থানীয় যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ করার মূল দায়িত্ব নেয় সে। পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তার এই নেটওয়ার্ক। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা ছাড়াও জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক বড়সড় সন্ত্রাসী নাশকতার নেপথ্যে সরাসরি হাত ছিল এই হামজার।
রহস্যময় হত্যাকাণ্ড এবং সম্ভাব্য প্রভাব
গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মাটিতে একের পর এক ‘ভারতশত্রু’ ও কুখ্যাত জঙ্গিদের রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। হামজা বুরহানের এই আকস্মিক খতম হয়ে যাওয়া সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের হাতে বেছে বেছে এই ধরনের হাই-প্রোফাইল জঙ্গিদের নিকেশ হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে এবং পাকিস্তানের অন্দরে বড়সড় প্রশ্ন খাড়া করেছে।
এই ঘটনার ফলে উপত্যকায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সাথে তাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হতে পারে। তবে পুলওয়ামা হামলার মতো এত বড় একটি নাশকতার পেছনের মূল চক্রী খতম হলেও, সেই সময়ে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সীমান্ত পার করে ভারতে আনা হয়েছিল, তা নিয়ে নিরাপত্তা মহলে বিতর্ক ও রহস্য আজও রয়ে গেছে।