বকেয়া ডিএ ও বদলি জটিলতা মেটাতে অবশেষে নবান্নে মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ জটিলতা নিরসনে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন সরকার। আগামী ৩০ মে, শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথ মঞ্চের এই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হতে চলেছে, যা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
সপ্তম পে কমিশন ও ডিএ-র ফারাক
সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে সপ্তম পে কমিশন চালুর বিষয়ে সিলমোহর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করা হবে, যার ফলে মূল বেতন পরিকাঠামোয় বড় বদল আসবে। সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বড় একটি অংশ এখনো বকেয়া ডিএ-র টাকা পাননি। নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তির পর সমস্ত কর্মচারীর কাছে সেই অর্থ না পৌঁছানো এবং ডিএ নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনো আলোচনা না হওয়ায় তৈরি হয়েছিল সাময়িক ক্ষোভ। এই প্রেক্ষিতেই ৩০ মে-র বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নেপথ্যের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র ডিএ আদায় নয়, বরং পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হওয়া প্রশাসনিক অনিয়ম ও ‘শাস্তিমূলক’ পদক্ষেপের সুরাহা করা। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, বকেয়া ডিএ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বহু কর্মচারীকে বাসস্থান থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে বেআইনিভাবে বদলি করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের মনোবল ভাঙতে নেওয়া এই ‘প্রতিহিংসামূলক বদলি’-র বিরুদ্ধে কর্মচারীরা আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আসন্ন এই বৈঠকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির পাশাপাশি কর্মচারীদের উপর হওয়া এই সব ‘শাস্তিমূলক’ বদলি বাতিলের দাবি জানানো হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক যদি সফল হয় তবে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অম্লমধুর সম্পর্কের অবসান ঘটতে পারে। সপ্তম পে কমিশনের পর বকেয়া ডিএ-র দাবি পূরণ হলে তা রাজ্য প্রশাসনের কর্মক্ষমতা ও গতিশীলতা বাড়াতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।