‘এক দেশ, এক ভোট’ চালু হলে বাঁচবে ৭ লক্ষ কোটি টাকা, বাড়তে পারে জিডিপির গতিও

‘এক দেশ, এক ভোট’ চালু হলে বাঁচবে ৭ লক্ষ কোটি টাকা, বাড়তে পারে জিডিপির গতিও

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্প ‘এক দেশ, এক ভোট’ নীতি কার্যকর হলে ভারতের অর্থনীতি ও প্রশাসনে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসতে পারে। দেশজুড়ে একসঙ্গে লোকসভা, বিধানসভা এবং স্থানীয় পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হলে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে, যেখানে জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে দাবি করেছে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)।

বুধবার গান্ধীনগরে এক সাংবাদিক বৈঠকে জেপিসি চেয়ারম্যান তথা লোকসভার সাংসদ পি পি চৌধুরী এই তথ্য জানান। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে গঠিত আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি প্রায় ১৮৬ দিন ধরে নিবিড় আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এই সংক্রান্ত মূল রিপোর্টটি তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে তা যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়। সেই রিপোর্টের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই আর্থিক এবং প্রশাসনিকভাবে দেশের লাভবান হওয়ার এই বিপুল অঙ্কের হিসাব সামনে এসেছে।

বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ও আইনি প্রক্রিয়া

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এই নীতি কার্যকর করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা হবে। এর পরবর্তী ১০০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচন। এই বিশাল নির্বাচনী সংস্কারের জন্য বর্তমানে সংবিধান (১২৯তম সংশোধনী) বিল, ২০২৪ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৪ খতিয়ে দেখছে যৌথ সংসদীয় কমিটি। এই প্রক্রিয়াটির অংশ হিসেবেই কমিটির সদস্যরা বর্তমানে তিন দিনের গুজরাট সফরে রয়েছেন।

দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

বর্তমানে ৩৯ জন সদস্য বিশিষ্ট এই জেপিসি-তে লোকসভা থেকে ২৭ জন এবং রাজ্যসভা থেকে ১২ জন সাংসদ রয়েছেন। বিলটি চূড়ান্ত করার আগে কমিটি দেশের প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টদের মতামত গ্রহণ করছে। ঘন ঘন নির্বাচনের কারণে দেশের প্রশাসনিক কাজের গতি থমকে যাওয়া এবং আদর্শ আচরণবিধির জন্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প আটকে থাকার যে সমস্যা তৈরি হয়, এই নীতি চালুর ফলে তা দূর হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে এই বিশাল প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের কাজটি রাতারাতি সম্ভব নয়। জেপিসি চেয়ারম্যান পি পি চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ২০৩৪ সালের আগে দেশে ‘এক দেশ, এক ভোট’ নীতি কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়। আপাতত ২০৩৪ সালের সেই ডেডলাইন বা সময়সীমাকে সামনে রেখেই পরবর্তী আইনি ও কাঠামোগত প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রের এই সংসদীয় কমিটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *