আদালতের রক্ষাকবচ পেলেন ক্যানিংয়ের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস

আদালতের রক্ষাকবচ পেলেন ক্যানিংয়ের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস

রাজ্যে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছিল। একের পর এক দলীয় নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় নিজের নিরাপত্তা ও গ্রেপ্তারির শঙ্কায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস। সেই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো রকম আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আদালত সাফ জানিয়েছে, এই স্বস্তির মেয়াদ সাময়িক এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে মামলাকারী বিধায়ককে।

নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক সংঘাত

গত ৪ মে রাজ্যে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই ক্যানিং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। খুন, মারামারি, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অস্ত্র আইনের মতো একাধিক গুরুতর ধারায় ক্যানিংয়ের একাধিক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সম্প্রতি ক্যানিং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উত্তম দাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিধায়কের গ্রেপ্তারির গুঞ্জন তীব্র হয়। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৬টি এফআইআরের প্রেক্ষিতেই আইনি সুরক্ষার খোঁজে আদালতে যান পরেশরাম দাস। বিধায়কের আইনজীবীর দাবি, দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে পাঁচটিই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়কার এবং এগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী এই দাবি খারিজ করে পালটা সওয়ালে জানান, তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে জমি দখল ও এলাকায় হিংসা ছড়ানোর মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

আপাতত ৩০ জুন পর্যন্ত গ্রেপ্তারি এড়াতে পারলেও আইনি জটিলতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নন তৃণমূল বিধায়ক। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, তদন্ত প্রক্রিয়া একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই এখনই তা থামানো যাবে না। এই আইনি রক্ষাকবচের ফলে ক্যানিংয়ের স্থানীয় রাজনীতিতে তৃণমূল শিবির সাময়িক স্বস্তি পেলেও, তদন্তে বিধায়কের সম্পৃক্ততা এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এলাকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে। আদালতের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে বিধায়ক পরেশরাম দাস নিজের সম্পূর্ণ নির্দোষ হওয়ার দাবি করেছেন এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *