আমেরিকার সঙ্গে লড়াইয়ে এবার প্রমিলা বাহিনী, দেশের মহিলাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে ইরান!

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষবিরতির মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কার মাঝেই এবার দেশের সাধারণ নাগরিকদের যুদ্ধের ময়দানে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। আর এই সামরিক প্রস্তুতির প্রথম সারিতেই রয়েছে দেশের নারী ও তরুণী সমাজ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন আগ্রাসনের জবাব দিতে এবার খোদ প্রমিলা বাহিনীর হাতে আধুনিক অস্ত্র তুলে দিচ্ছে তেহরান।
নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক এবং ইরানের পাল্টা রণকৌশল
এই উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে। সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের পরবর্তী যৌথ সামরিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি আসার পর আর সময় নষ্ট করতে রাজি নয় ইরান। ফলে বয়স ও লিঙ্গের তোয়াক্কা না করে তরুণ, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে আপামর জনগণের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ ‘রাত্রিকালীন সমাবেশে’ যোগ দিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলছেন এবং নিয়মিত অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
প্রমিলা বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো সম্ভাব্য মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ আক্রমণ ঠেকাতে নিজেদের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি করা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানের ভানাক স্কোয়ারসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নাবালিকা, কিশোরী ও তরুণীদের একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ নারীদের এভাবে পুরোদস্তুর লড়াকু সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার এই কৌশল ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান এবার আর শুধু প্রথাগত সেনাবাহিনীর ওপর ভরসা রাখছে না।
ইরানের এই সর্বাত্মক যুদ্ধ প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে সাধারণ নাগরিকদের সশস্ত্র করার ফলে যুদ্ধ শুরু হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের জোটের বিরুদ্ধে ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।