৪২ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের রিপোর্টে তেহরানের গর্জন, চরম অস্বস্তিতে পেন্টাগন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে সামরিক পরাশক্তি আমেরিকার বিপুল ক্ষয়ক্ষতির এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন থিংক ট্যাংক ‘কংগ্রেসশনাল রিসার্চ সার্ভিস’ (সিআরএস)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্তত ৪২টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগন যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও, বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক বিবৃতি পর্যালোচনা করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে সিআরএস। আর এই তথ্য সামনে আসতেই ওয়াশিংটনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শেনেছে ইরান।
অর্থনৈতিক ধাক্কা ও সামরিক বিপর্যয়
এই যুদ্ধ মার্কিন কোষাগারের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করেছে, তা পেন্টাগনের পূর্ববর্তী বিবৃতি থেকেই স্পষ্ট। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যেই আমেরিকার ২৯ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যার একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামতের পেছনে। সিআরএস-এর রিপোর্টে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তালিকায় উঠে এসেছে আমেরিকার গর্ব হিসেবে পরিচিত ৪টি এফ-১৫ই ইগল ফাইটার জেট এবং ১টি এফ-৩৫এ লাইটনিং যুদ্ধবিমানের মতো প্রথম সারির ফাইটার জেট। এছাড়া তালিকায় রয়েছে ১টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট, ৭টি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, ১টি ই-৩ সেন্ট্রি আগাম সতর্কীকরণ বিমান, ২টি এমসি-১৩০জে বিশেষ অভিযান বিমান এবং ১টি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার। এর পাশাপাশি ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার এবং ১টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটনের মতো ২৫টি চালকবিহীন ড্রোনও ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি ও সম্ভাব্য প্রভাব
সামরিক শক্তিতে আমেরিকার চেয়ে বহুগুণ পিছিয়ে থাকলেও এই ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান প্রকাশ্যে আসতেই তেহরানের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। মার্কিন কংগ্রেসের নীতি নির্ধারক সংস্থার এই রিপোর্ট প্রকাশের পরপরই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘাচি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি অবিলম্বে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ না করে, তবে মার্কিন সেনাদের জন্য ভবিষ্যতে আরও বড় ‘চমক’ অপেক্ষা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিআরএস-এর এই পরিসংখ্যান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক আধিপত্য এবং কৌশলগত অবস্থানের ওপর বড় ধাক্কা। ইরানের প্রতিরোধের মুখে আমেরিকার এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি একদিকে যেমন মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির ওপর চাপ বাড়াবে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন অর্থনীতির পাশাপাশি বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।