লক্ষ কোটির বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে দেশে ফিরছেন মোদী, খুলছে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক পাঁচ দেশীয় সফর ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইটালি—এই পাঁচ দেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আজ দেশে ফিরছেন। তাঁর এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই মজবুত করেনি, বরং ভারতের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ কোটি টাকার এক বিশাল বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ পুঁজি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৫০টিরও বেশি বহুজাতিক সংস্থার সাথে মেগা বৈঠক
সফর চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদী বিভিন্ন খাতের ৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক কো ম্পা নির সিইও এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কো ম্পা নিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ২.৭ ট্রিলিয়ন থেকে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এর মধ্যে বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই ভারতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। নতুন এই সমঝোতার ফলে দেশে তাদের মোট বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পরিমাণ প্রায় ১৮০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে। এই মেগা বৈঠকগুলোর সরাসরি সুফল হিসেবেই সাড়ে ৩ লক্ষ কোটি টাকার এই নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম হয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তিতে জোর, আমিশাহীর বড় ঘোষণা
এবারের সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, আধুনিক লজিস্টিকস এবং উন্নত প্রযুক্তির মতো ভবিষ্যৎমুখী খাতগুলো। এই ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু নতুন প্রকল্পের কাজ দ্রুত প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী একাই ভারতে নতুন বিনিয়োগ হিসেবে ৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মোদীর এই সফরে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ছিল গভীর সাংস্কৃতিক ও বাঙালি আবেগের সংযোগ। সফরে তিনি যেমন ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন, তেমনই তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছিল স্পষ্ট রাবীন্দ্রিক ছোঁয়া।
অর্থনীতিতে গতি এবং কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে এক ধাক্কায় অনেকটা শক্তিশালী করে তুলবে। বিপুল পরিমাণ ডলারের এই আগমন ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার সংরক্ষণ বা ফরেক্স রিজার্ভকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে, যা বিশ্ববাজারে ভারতীয় মুদ্রার অবস্থানকে আরও স্থিতিশীল করবে। এর পাশাপাশি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে নতুন নতুন প্রকল্প চালু হওয়ার ফলে দেশের শিক্ষিত ও দক্ষ যুবসমাজের জন্য বিপুল পরিমাণ স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে।