ফুটো চাল দিয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল, মঙ্গলকোটে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বেহাল দশা নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!

পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট বিধানসভা কেন্দ্রের বুঁইচি গ্রামের মাঝিপাড়ায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের চরম বেহাল দশা সামনে এসেছে। একটি ছোট্ট ভাঙাচোরা ঘরে চলছে এই কেন্দ্রটি, যার চাল ফুটো হয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরে জল পড়ে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং ঘরের ভেতর হাঁটু পর্যন্ত জল জমে যায়। এই নড়বড়ে পরিকাঠামোর কারণে প্রায় ৭০ জন শিশুর পঠনপাঠন ও পুষ্টির জোগান দেওয়ার ন্যূনতম পরিবেশটুকুও সেখানে নেই।
তীব্র ধোঁয়ার কারণে ঘরের ভেতর রান্না করার উপায় না থাকায় কর্মীরা বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারে উনুন জ্বালিয়ে রান্না সারছেন। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বক্তব্য, বৃষ্টি এলে চাল-ডাল থেকে শুরু করে রান্নার জ্বালানি পর্যন্ত সব ভিজে যায়। এই চরম অব্যবস্থার কারণে শিশুদের কেন্দ্রে পাঠাতে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক ও আশঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা।
টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক
এই পরিকাঠামোগত সংকটের পেছনে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি বুথ সভাপতি আশুতোষ ঘোষের দাবি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি অর্থ বরাদ্দ হলেও, সেই টাকা কাজের জন্য খরচ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই আর্থিক দুর্নীতির নিশানায় রয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি প্রদীপ চট্টরাজ। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও জনমানসে ক্ষোভ
প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে এই অঞ্চলের শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি এবং প্রাথমিক শিক্ষার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই কেন্দ্রের সংস্কার করা না হলে বর্ষার মরসুমে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বুঁইচি গ্রাম জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।