তীব্র তাপপ্রবাহের পরেই কি ধেয়ে আসছে ১০০ কিমি বেগে বিধ্বংসী ঝড়?

তীব্র তাপপ্রবাহের পরেই কি ধেয়ে আসছে ১০০ কিমি বেগে বিধ্বংসী ঝড়?

উত্তর ভারত জুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝেই আবহাওয়া ব্যবস্থার এক ভয়ঙ্কর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)। দিল্লি থেকে কলকাতা—দেশের এক বিস্তীর্ণ অংশে যখন প্রচণ্ড গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই ধেয়ে আসছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের দ্বৈত আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে এই আকস্মিক ও চরম খামখেয়ালি বদল ঘটতে চলেছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

গরমে জ্বলছে উত্তর ও পূর্ব ভারত

বর্তমানে দিল্লি, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪৭ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছনোর রেকর্ড তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে দেশের উষ্ণতম স্থান হিসেবে উঠে এসেছে বান্দা। দিল্লির পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে আগামী ২৬ মে পর্যন্ত সেখানে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে প্রশাসন। সকাল থেকেই বইছে লু, এমনকি রাতের তাপমাত্রাও থাকছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ উঁচুতে। কলকাতার আবহাওয়াও প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় পৌঁছেছে।

ঝড়-বৃষ্টির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

আইএমডি জানিয়েছে, এই তীব্র দহনের পরই আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন ঘটবে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপর একটি সক্রিয় নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণিঝড়ের সম্মিলিত প্রভাব তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের অন্তত ১৩টি রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের সময় কিছু কিছু এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই চরম পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন তাপমাত্রা কমবে, অন্যদিকে আকস্মিক তীব্র ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আগাম বর্ষার আগমনবার্তা

আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি রূপের মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর এনেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করেছে বর্ষা। আবহাওয়াবিদদের অনুমান, নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই ২৬ মে-র মধ্যে কেরলে বর্ষা ঢুকে পড়তে পারে। এর প্রভাবে ইতিমধ্যেই কেরল, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্র প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের অন্যান্য অংশেও গরমের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *