এক ভোটার দিলেন ৩ বার ভোট, ফলতায় সামনে এল নজিরবিহীন কারচুপির ছবি!

এক ভোটার দিলেন ৩ বার ভোট, ফলতায় সামনে এল নজিরবিহীন কারচুপির ছবি!

নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক ভোটারের তিনবার ভোট দেওয়ার এক নজিরবিহীন ঘটনা সামনে এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে। ভোটার তালিকা স্বচ্ছ করতে কমিশনের বিশেষ প্রক্রিয়ার মাঝেই এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় জোড়া নাম

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন জয় সাহা নামের এক ভোটার। অভিযোগ উঠেছে, ফলতার প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গির খানের নির্দেশেই বিএলও-রা (বুথ লেভেল অফিসার) ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য এসআইআর (SIR) ফর্মের মাধ্যমে কাজ করলেও, প্রভাবশালীদের দাপটে সেই নিয়মকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। বারংবার বলা সত্ত্বেও একই ভোটারের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে দুটি ভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে রেখে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

একই নির্বাচনে তিনবার ভোটদানের রেকর্ড

নিয়ম অনুযায়ী এক ব্যক্তির একটি মাত্র ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও, জয় সাহা চলতি ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনেই মোট তিনবার ভোট দিয়েছেন। জানা গেছে, ১৪৩ ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা এবং ১৪৪ ফলতা বিধানসভা—উভয় কেন্দ্রের ভোটার তালিকাতেই তাঁর নাম রয়ে গেছে। প্রথমে গত ২৯ তারিখ তিনি ডায়মন্ড হারবারে ভোট দেন। পরবর্তীতে সেখানে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করা হলে তিনি দ্বিতীয়বার ভোট দেন। এরপর আজ ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনে এসে তিনি তৃতীয়বারের মতো নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব

এই ঘটনার ফলে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ল। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ধরনের দ্বৈত ভোটার তালিকা এবং ছাপ্পা ভোটের ‘মেকানিজম’ সাধারণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করে। একই সাথে, মাঠপর্যায়ে কর্মরত নির্বাচনী আধিকারিকদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা আগামী দিনে কমিশনের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *