‘সেই রাতের ডিনার’-এ লুকিয়ে কী রহস্য? ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ফের খুলছে আরজি কর কাণ্ডের ফাইল

‘সেই রাতের ডিনার’-এ লুকিয়ে কী রহস্য? ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ফের খুলছে আরজি কর কাণ্ডের ফাইল

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সেই অভিশপ্ত রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি এখনও। নিম্ন আদালতে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও, অপরাধের আসল উৎস এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের নেপথ্যে থাকা আসল সত্য জানতে মরিয়া নিহত চিকিৎসকের পরিবার। এই পরিস্থিতিতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। ঘটনার ১ বছর ৭ মাস পর, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরজি কর মামলার নতুন করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ও বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সিবিআই এতদিন কী তদন্ত করেছে এবং তাদের রিপোর্টে কী উঠে এসেছে, তা খতিয়ে দেখার পর আদালত এই কড়া নির্দেশ দেয়। এই তদন্ত প্রক্রিয়ার সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সিবিআই-এর জয়েন্ট ডিরেক্টর (পূর্বাঞ্চল)-সহ তিন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে সিবিআই-এর গাফিলতি ও আদালতের তীব্র ভর্ৎসনা

শুনানি চলাকালীন সিবিআই-এর তদন্তের ধীরগতি এবং কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। দীর্ঘ ১ বছর ৭ মাসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ঠিক কী ভূমিকা পালন করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। অন্যদিকে, চার্জশিট জমা দেওয়ার পর ৭০ থেকে ৮০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে সিবিআই নতুন কী তথ্য পেল, সেই বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি শম্পা সরকার। সিবিআই-এর আইনজীবী স্বীকার করে নেন যে প্রাথমিক পুলিশি তদন্তে কিছু ত্রুটি ছিল এবং তা তাঁদের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, সিবিআই নিজেরাই যে সমস্ত গাফিলতি বা ল্যাপস চিহ্নিত করেছে, সেগুলির ওপর ভিত্তি করেই যেন নতুন করে তদন্তের অভিমুখ ঠিক করা হয়।

ঘটনার দিন রাতের ডিনার থেকে শুরু হবে পুনস্তদন্ত

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন করে শুরু হতে যাওয়া এই তদন্তের পরিধি হবে অত্যন্ত ব্যাপক। ঘটনার দিন রাতের ডিনার থেকে শুরু করে অপরাধের সময়কাল, এমনকি মৃতদেহ দাহ করা এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা—সব কিছুই এই পুনস্তদন্তের আওতায় আসবে। যেহেতু এই ঘটনার সঙ্গে গভীর জনস্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে, তাই সিবিআই-এর বেশ কয়েকজন সিনিয়র অফিসারকে আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই অনমনীয় অবস্থানের ফলে আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সমস্ত গোপন সত্য ও প্রভাবশালী যোগসূত্র সামনে আসার একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *