ইদের আগে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি, শুভেন্দুকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে হুঁশিয়ারি হুমায়ুন কবিরের

আসন্ন বকরি ইদের আগে কোরবানিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল। রাজ্য সরকারের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের কড়াকড়ির জবাবে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান তথা রেজিনগর ও নওদার নবনির্বাচিত বিধায়ক হুমায়ুন কবির। সরকার ও শাসক শিবিরের তীব্র সমালোচনা করে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, ইসলামে কোরবানির ঐতিহ্য প্রায় ১৪০০ বছরের পুরোনো এবং এই ধর্মীয় রীতিকে কেউ আটকাতে পারবে না। জনগণের ভোটে শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় এলেও তাঁদের ধর্মীয় ঐতিহ্যে কোনো হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আইন বনাম ধর্মীয় ঐতিহ্য
হুমায়ুন কবিরের এই বিতর্কিত মন্তব্য বাংলায় মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও উস্কে দিয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের নামে নতুন মসজিদ গড়ার ঘোষণা দিয়ে বিতর্কে জড়ানোয় তাঁকে তৎকালীন দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি নিজের দল গঠন করে সাম্প্রতিক নির্বাচনে দুটি আসন থেকে জয়লাভ করেন। বকরি ইদের আগে তাঁর এই নতুন হুঁশিয়ারি নবান্ন বনাম বিরোধী শিবিরের সংঘাতের পারদকে অনেকটাই চড়িয়ে দিয়েছে। তবে এর বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেছে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর গলায়। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে রাজ্য সরকারের ১৯৫০ সালের পшুবধ নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলার এবং কোরবানির সময় গো-হত্যা করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে দেশের সর্বত্র অভিন্ন আইনের দাবি তুলে বিপুল পরিমাণে গোমাংস বিদেশে রপ্তানি বন্ধের পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।
পুরনো আইনের কড়াকড়ি ও সংঘাতের আবহ
হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট করেছেন যে সরকার কোনো নতুন নিয়ম তৈরি করেনি, বরং পুরনো আইনকেই কড়াভাবে প্রয়োগ করছে। ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো সুস্থ গবাদি পশুকে কোরবানি দেওয়া যাবে না এবং পশু চিকিৎসকের শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। পূর্বতন সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য এই আইন রূপায়ণে ঢিলেমি দিলেও বর্তমান সরকার তা বরদাস্ত করবে না বলে তিনি সাফ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বকরি ইদের মুখে এই কোরবানি বিতর্ক ও ধর্মীয় অনড় অবস্থান একদিকে যেমন প্রশাসনিক স্তরে আইন প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ বাড়াবে, অন্যদিকে রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলবে।