জুন মাসেই বিপুল আর্থিক ধামাকা, বাংলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে এবার মিলবে দ্বিগুণ টাকা!

রাজ্যের আমজনতা তথা প্রবীণ ও দুঃস্থ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল নতুন রাজ্য সরকার। বিধানসভা নির্বাচনের সময় দেওয়া মেগা প্রতিশ্রুতি পূরণে বিপুল আর্থিক বরাদ্দের ঘোষণা করেছে বর্তমান প্রশাসন। এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যের সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা ভাতা এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। একই সাথে অত্যন্ত জনপ্রিয় ডিরেক্ট ক্যাশ ট্রান্সফার প্রকল্পটির নাম ও পরিধি বদলে চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার
ভোটের লড়াইয়ে নামার আগে বর্তমান শাসক দল সাধারণ মানুষের কাছে যে সমস্ত জনমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম শীর্ষ তালিকায় ছিল মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা। পূর্বতন সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পটির হাত ধরে রাজ্যের মহিলারা মাসে সর্বোচ্চ ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত পেতেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রকল্পের নাম ও রূপরেখা বদলে রাখা হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবার থেকে এই প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রত্যেক যোগ্য মহিলা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন।
একইভাবে বিধবা, বার্ধক্য এবং প্রতিবন্ধী ভাতাও আগে যা মিলত তার চেয়ে দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী জুন মাস থেকেই এই বর্ধিত টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিরেক্ট বেনেফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঠানো শুরু হবে।
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মিলেছিল ছাড়পত্র
প্রশাসন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পরপরই নিজের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই প্রথম বৈঠকেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পটিকে। আগামী ১ জুন থেকে যাতে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই রাজ্যজুড়ে ধাপে ধাপে এই মেগা প্রকল্প কার্যকর করা যায়, তার জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পরেই নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক বাকি সামাজিক ভাতাগুলিও একযোগে দ্বিগুণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
প্রকল্প বন্ধের জল্পনা উড়িয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল যে, পূর্বতন সরকারের চালু করা একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হয়তো বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে বিরোধীদের সেই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, আগের সরকারের চালু করা কোনো সামাজিক প্রকল্পই এই রাজ্যে বন্ধ করা হচ্ছে না। বরং সেগুলির পরিধি ও আর্থিক সাহায্য আরও বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
১ জুন থেকে এই নয়া নিয়ম চালু হতে চলায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া রাজ্যের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিতে। তবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সামাজিক সুরক্ষার ইতিবাচক প্রভাব যেমন সাধারণ মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়াবে, তেমনই এই বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সামলে নতুন সরকার কীভাবে রাজ্যের রাজকোষ পরিচালনা করে, সেটাই এখন বড় দেখার বিষয়।