টালমাটাল কলকাতা পুরসভা, পরিস্থিতি সামলাতে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মমতা!

টালমাটাল কলকাতা পুরসভা, পরিস্থিতি সামলাতে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মমতা!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিজেপির নবান্ন দখলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) অন্দরে তীব্র ডামাডোল শুরু হয়েছে। গেরুয়া ঝড়ের ধাক্কায় পুরসভার প্রশাসনিক ও দলীয় নিয়ন্ত্রণ আলগা হওয়ার উপক্রম তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেই দলের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি আটকাতে এবং কাউন্সিলরদের একসূত্রে বাঁধতে এবার সরাসরি আসরে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামীকাল, শুক্রবার বিকেল ৪টেয় কালীঘাটের বাসভবনে পুরসভার দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পুরসভার পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সংকটের গভীরতা বোঝা যায় পুরসভার একটি আকস্মিক সিদ্ধান্তে। শুক্রবার দুপুর থেকে কলকাতা পুরসভার পূর্বনির্ধারিত মাসিক অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই অধিবেশন আপাতত বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর পরপরই খবর আসে, শুক্রবারই কালীঘাটে সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলরকে হাজির থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

ভরাডুবির খাঁড়া ও মেয়রের ইস্তফার জল্পনা

বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের ১৩৭ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। খাতায়-কলমে এই সংখ্যাটি বড় মনে হলেও বাস্তব পরিস্থিতি শাসক শিবিরের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। বিধানসভা নির্বাচনের ওয়ার্ডভিত্তিক ফলাফলের যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এই ১৩৭ জন কাউন্সিলরের মধ্যে একটি বড় অংশই নিজেদের ওয়ার্ডে লিড ধরে রাখতে পারেননি এবং বিরোধী শিবিরের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছেন। রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবেই এই কাউন্সিলররা আগামী পুরভোটের আগে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কোণঠাসা বোধ করছেন।

এই টালমাটাল পরিস্থিতির আগুনে ঘি ঢেলেছে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার তীব্র জল্পনা। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ফিরহাদ হাকিম পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। গত কয়েকদিন ধরে পুরভবনের অন্দরে এই গুঞ্জন চলায় দলের কাউন্সিলরদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

ড্যামেজ কন্ট্রোল ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে নিজেদের ওয়ার্ডে ভরাডুবি এবং অন্যদিকে মেয়রের পদত্যাগের গুঞ্জনে পুরসভার রাশ পুরোপুরি আলগা হওয়ার জোগাড় হয়েছে। এই জোড়া ধাক্কায় কাউন্সিলরদের মধ্যে যাতে কোনওরকম হতাশা তৈরি না হয় কিংবা বড় ধরনের দলবদল বা ভাঙন না ধরে, মূলত সেই কারণেই তড়িঘড়ি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে নামলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

শুক্রবারের এই বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের মনোবল চাঙ্গা করতে কী বার্তা দেন এবং ফিরহাদ হাকিমকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংকট কীভাবে মেটানো হয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের আগামী দিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *