নেটপাড়ায় তীব্র ক্ষোভ, বিজেপিকে টেক্কা দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক

নেটপাড়ায় তীব্র ক্ষোভ, বিজেপিকে টেক্কা দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক

ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সোশাল মিডিয়া ট্রেন্ড যে এত দ্রুত দেশের মূল ধারার রাজনীতিতে বড় ঝড় তুলবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি। মাত্র চার দিনে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমতাসীন দল বিজেপি-কে টেক্কা দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) অ্যাকাউন্ট এবার ভারতে বড়সড় কোপের মুখে পড়েছে। আইনি নোটিশের অজুহাতে দেশটিতে এই দলের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টটি ব্লক বা হোল্ড করে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর আমেরিকা থেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে নিজের গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে সরাসরি মোদী সরকারকে নিশানা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দিল্লিতে নামলেই তাকে তিহাড় জেলে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

যেভাবে জন্ম নিল ককরোচ জনতা পার্টি

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি শুনানির সময় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই প্যারোডি পেজের জন্ম হয়। দেশের সাধারণ নাগরিক বা বিরোধীদের ‘আরশোলার’ সঙ্গে তুলনা করার একটি আবহ তৈরি হতেই নেটপাড়ায় ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৩০ বছর বয়সী রাজনৈতিক তথ্যপ্রযুক্তি কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে তড়িঘড়ি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক দল ঘোষণা করেন।

মুহূর্তের মধ্যে এই প্রতীকী প্রতিবাদ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। দেশের সাধারণ মানুষ তো বটেই, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ থেকে শুরু করে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধীদের বহু শীর্ষ নেতা সোশাল মিডিয়ায় এই ট্রেন্ডে যোগ দেন। দেশজুড়ে লড়াইটা এখন ‘BJP বনাম CJP’ রূপ নিয়েছে এবং বহু নামী কমেডিয়ান ও ইনফ্লুয়েন্সার এই প্রতিবাদের শামিল হয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যায় এই পেজটি বিজেপিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

ডিজিটাল সেন্সরশিপ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে আইনি নির্দেশিকা পাওয়ার পরই এক্স কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনসে সদ্য স্নাতক হওয়া অভিজিৎ দিপকে এই ডিজিটাল সেন্সরশিপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, সোশাল মিডিয়ায় অনুগামী বাড়লেও দেশের আসল জ্বলন্ত সমস্যাগুলো এখনো আড়ালেই রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অ্যাকাউন্ট ব্লক করার ঘটনাটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বাকস্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নেটদুনিয়ায় সরকারের প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে, একজন সাধারণ কৌশলবিদের তৈরি প্যারোডি আন্দোলনকে যেভাবে বিরোধী দলগুলো লুফে নিয়েছে, তা আগামী দিনে নির্বাচনী রাজনীতিতে শাসকদলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হতে পারে। ডিজিটাল দুনিয়ার এই মেগা ফাইট এবং খোদ প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেফতারের আশঙ্কা ভারতের আগামী দিনের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *