ভোটের প্রতীক হিসেবে আরশোলা! শুনে হতবাক নেটপাড়া, কী বলছে কমিশন?

সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে ডানা মেলে উড়ে এসে ভারতের রাজনৈতিক অলিন্দে হইচই ফেলে দিয়েছে এক অদ্ভুত নাম—’ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। মাত্র কয়েকদিন আগে পথ চলা শুরু করেই এই ভার্চুয়াল দল ইনস্টাগ্রামে অনুগামীর সংখ্যার নিরিখে খোদ ভারতীয় জনতা পার্টিকেও (বিজেপি) পিছনে ফেলে দিয়েছে। আমেরিকার বোস্টন থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই দল পরিচালনা করলেও, ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এর শাখা গজিয়ে উঠেছে। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের দু’জন বর্তমান সংসদ সদস্যও নাকি এতে ‘যোগ’ দিয়েছেন। তবে সম্প্রতি ভারত সরকারের নির্দেশে দলটির এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়া এবং তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আইনি বিতর্ক। যদি এই দল সত্যিই কোনোদিন ভোটের ময়দানে নামে, তবে কি তারা নিজেদের নামানুসারে ‘আরশোলা’ প্রতীক নিয়ে লড়তে পারবে?
নির্বাচন কমিশনের নিয়মের কড়া দেওয়াল
তাত্ত্বিকভাবে যেকোনো দলের প্রতীক চাওয়ার অধিকার থাকলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) কড়া আইনের দেওয়ালে এই আরশোলা পিষে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। ‘দি ইলেকশন সিম্বলস অর্ডার, ১৯৬৮’ অনুযায়ী, নতুন দলকে কমিশনের ‘মুক্ত প্রতীক’ বা ফ্রি সিম্বলসের তালিকা থেকে প্রতীক বেছে নিতে হয়। এই তালিকায় তালা-চাবি বা ল্যাপটপের মতো একশোর বেশি প্রতীক থাকলেও কোনো আরশোলা নেই। এমনকি সিজেপি দাবি করা ‘মোবাইল ফোন’ প্রতীকটিও এই তালিকায় অনুপস্থিত। কোনো দল নতুন প্রতীকের আবেদন করতে চাইলে সর্বোচ্চ তিনটি নকশা জমা দিতে পারে, তবে তাতে ধর্মীয় বা কোনো পশুপাখির অবয়ব থাকা নিষিদ্ধ। জীববিজ্ঞানের সংজ্ঞা অনুযায়ী কমিশন যদি আরশোলাকে প্রাণী জগতের অংশ হিসেবে গণ্য করে, তবে শুরুতেই এই প্রতীক পাওয়ার আশা ভেস্তে যাবে।
পশুপাখির প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ও ব্যতিক্রম
ভোটের ময়দানে হাতি বা সিংহের মতো প্রতীক দেখা গেলেও নতুনদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ১৯৯১ সাল থেকেই নির্বাচন কমিশন নতুন কোনো পশুপাখির প্রতীক দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১২ সালে পশুপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী অধিকার কর্মীদের আন্দোলনের জেরে এই অবস্থান আরও কঠোর হয়। নির্বাচনী প্রচারে আসল পশুপাখি ব্যবহার করে তাদের ওপর চালানো নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির ‘হাতি’ কিংবা ফরওয়ার্ড ব্লকের ‘সিংহ’ প্রতীককে কেবল প্রাচীন দল হিসেবে ‘ঐতিহাসিক ব্যতিক্রম’ বা লেগাসি এক্সেপশন হিসেবে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
আপাতত ককরোচ জনতা পার্টির এই দাপট সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সীমাবদ্ধ। ভবিষ্যতে যদি তারা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী নিজেদের রাজনৈতিক দল হিসেবে নথিভুক্তও করে, তবে ইভিএমের বোতামে এই আরশোলা প্রতীক পাওয়ার রাস্তা আইনি কাঁটায় ভরা। দেশের নির্বাচন কমিশন যে সহজে ব্যালট পেপারে আরশোলাকে জায়গা দেবে না, তা স্পষ্ট।