তীব্র দাবদাহে হিট স্ট্রোক রুখবে টক দইয়ের পাঁচটি বিদেশি পদ!

তীব্র দাবদাহে হিট স্ট্রোক রুখবে টক দইয়ের পাঁচটি বিদেশি পদ!

গ্রীষ্মের পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই। তীব্র গরমে পেটের অস্বস্তি এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে পুষ্টিবিদরা রোজকার খাদ্যতালিকায় টক দই রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। তবে প্রতিদিনের চেনা রায়তা বা ঘোলের একঘেয়েমি কাটাতে ঘরে থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়েই এখন তৈরি করা যাচ্ছে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু পাঁচটি বিদেশি পদ।

গ্রিসের বিখ্যাত ‘জাজিকি’ তৈরি করা হয় জল ঝরানো ঘন টক দই, গ্রেট করা শসা, রসুন কুচি, অলিভ অয়েল ও ধনেপাতা মিশিয়ে। শসার হাইড্রেটিং গুণ এবং রসুনের অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, তুরস্কের জনপ্রিয় পদ ‘ক্যাসিক’ মূলত একটি পাতলা ঠান্ডা স্যুপ। টক দই, জল, শসা ও পুদিনা পাতার এই মিশ্রণটি শরীরে জলের ঘাটতি মিটিয়ে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ভিন্ন স্বাদের খোঁজে তালিকায় রাখা যেতে পারে ইরানের ‘মাস্ত-ও-খিয়ার’ এবং লেবাননের ‘লাবনে বল’। দই, শসা এবং পুদিনার সাথে কিশমিশ ও আখরোটের মেলবন্ধনে তৈরি ইরানি পদটি মুখের স্বাদ ফেরানোর পাশাপাশি শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। অন্যদিকে, লেবাননের ‘লাবনে বল’ হলো জল ঝরানো দই দিয়ে তৈরি উচ্চ প্রোটিন ও কম কার্বোহাইড্রেটের একটি চিজ-সদৃশ স্ন্যাক্স, যা অলিভ অয়েলে ডুবিয়ে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া, সেদ্ধ বিটের পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ভূমধ্যসাগরীয় ‘বিট ইয়োগার্ট’ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

তবে টক দইয়ের পূর্ণ গুণাগুণ পেতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, সকালে খালি পেটে দই খেলে অম্লতা বা অ্যাসিডের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া, দই কখনো গরম করা উচিত নয়, এতে এর উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, রাতে দই খেলে কফ ও সর্দি-কাশির প্রবণতা বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই এই পদগুলো খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *