আরজি করের সেমিনার রুমে সেদিন কী হয়েছিল, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে এবার সিট গঠন করল হাইকোর্ট

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রশিক্ষণরত তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় এবার নতুন মোড় এল। মূল ঘটনার পর সেমিনার রুমে সুপরিকল্পিতভাবে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করা হয়েছিল বলে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠছিল। সেই অভিযোগের সত্যতা ও গভীরতা খতিয়ে দেখতে এবার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে একটি শক্তিশালী বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠনের ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছে।
৩ সদস্যের এই বিশেষ তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে থাকবেন সিবিআই-এর (CBI) জয়েন্ট ডিরেক্টর (ইস্টার্ন জোন)। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, নির্যাতিতার পরিবার শুরু থেকে যে সমস্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল, তার প্রতিটি বিষয় এই তদন্ত কমিটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতে হবে। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও সামগ্রিক রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার জন্য সিট-কে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের পরিধি ও পুনর্নির্মাণ
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই নতুন তদন্ত প্রক্রিয়ায় সিট যে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট মহলকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করার পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে। ঘটনার দিন রাতে সেমিনার রুমে ঠিক কী ঘটেছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে নতুন করে অপরাধের সময়পঞ্জি বা টাইমলাইন তৈরি করা হবে। বিশেষ করে, ঘটনার রাতে তরুণী চিকিৎসক নৈশভোজ সারার পর থেকে ঠিক কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, সেই নিখুঁত ঘটনাপ্রবাহকে এবার আইনি তদন্তের মূল আওতায় আনা হচ্ছে। এর আগে গত মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে কেস ডায়েরি, অডিও-ভিডিও ক্লিপ ও ফোটোগ্রাফ সহ যাবতীয় প্রাসঙ্গিক নথি তলব করেছিল আদালত, যা এই নতুন তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করবে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্তভার সিবিআই-এর শীর্ষ আধিকারিকের নেতৃত্বে সিট-এর হাতে যাওয়ায় মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই নির্দেশের ফলে মূল ঘটনার পাশাপাশি কারা কারা প্রমাণ নষ্টের ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল, তা প্রকাশ্যে আসবে। রাজনৈতিকভাবেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কারণ নির্যাতিতার মা সম্প্রতি নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছেন এবং বিরোধী শিবিরও এই মামলার ন্যায়বিচারের বিষয়টিকে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। হাইকোর্টের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের ভূমিকা এবং হাসপাতালের প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়গুলো পুনরায় আইনি আতশকাচের নিচে চলে এল, যা আগামী দিনে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির পথকে আরও প্রশস্ত করতে পারে।