তীব্র গরমে ঝুঁকিতে চারপেয়েরা! অবহেলা করলেই হতে পারে মারাত্মক হিটস্ট্রোক

চলতি গ্রীষ্মের তীব্র দাপটে মানুষ তো বটেই, ওষ্ঠাগত প্রাণপোকুলও। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং তীব্র রোদ ঘরের প্রিয় পোষ্যটির স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে কুকুর ও বিড়ালেরা এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মানুষের মতো ঘামের মাধ্যমে শরীর শীতল করার প্রাকৃতিক ক্ষমতা এদের নেই। ফলে সামান্য অসাবধানতায় পোষ্যরা জলশূন্যতা, বমি, তীব্র শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী হিটস্ট্রোকের শিকার হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চারপেয়ে বন্ধুদের সুস্থ ও সতেজ রাখতে বাড়তি সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।
ঝুঁকির কারণ ও হিটস্ট্রোকের লক্ষণ
গ্রীষ্মকালে বদ্ধ গাড়ি বা বাতাসহীন ঘরে তাপমাত্রা কয়েক মিনিটের মধ্যে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যায়, যা পোষ্যের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এছাড়া দুপুরের তপ্ত পিচ বা সিমেন্টের রাস্তায় হাঁটালে ওদের পায়ের নরম তালু পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি কোনো পোষ্য অনবরত হাঁপাতে থাকে, অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়ে, বমি করে কিংবা দ্রুত শ্বাস নেয়, তবে বুঝতে হবে সেটি হিটস্ট্রোকের লক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রাণীটিকে শীতল জায়গায় নিয়ে গিয়ে অবিলম্বে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সুরক্ষায় করণীয় ও সহজ কিছু ধাপ
পোষ্যকে সুস্থ রাখতে সারাদিন পর্যাপ্ত পরিষ্কার ও ঠান্ডা জলের জোগান নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে জলের পাত্রে বরফের টুকরো দেওয়া যেতে পারে। রোদ এড়িয়ে হাঁটা বা ঘোরানোর জন্য কেবল খুব সকাল অথবা সন্ধ্যার সময়টিই বেছে নেওয়া শ্রেয়। ঘরের যে অংশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে বা ফ্যান-কুলার চলে, পোষ্যকে সেখানে রাখতে হবে। বারান্দা বা ছাদের মতো উত্তপ্ত জায়গায় ওদের একা রাখা সম্পূর্ণ অনুচিত।
পাশাপাশি এই সময়ে পোষ্যের খাদ্যতালিকায় বদল আনা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সহজে হজম হয় এমন হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার দিতে হবে এবং কোনোভাবেই দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধার্ত রাখা যাবে না। গরমে লোমের পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত লোম আঁচড়ে দিলে তা সতেজ থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া লোম অতিরিক্ত ছোট করে ছাঁটা যাবে না। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই তীব্র দাবদাহেও পোষা প্রাণীদের নিরাপদ ও সুস্থ রাখা সম্ভব।