উত্তেজক মন্তব্যে বিপন্ন বাংলার সম্প্রীতি, হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ফাঁসির দাবি

পশ্চিমবঙ্গে পশুবলি ও গো-হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণের আবহ তৈরি হয়েছে। ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি সরকারি নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে হুমায়ুন কবীর সাফ জানিয়েছেন, কোনো নিয়ম বা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কোরবানির প্রথা বন্ধ হবে না। এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হিন্দু ধর্মগুরু জগদ্গুরু স্বামী শ্রী সতীশাচার্য জি মহারাজ।
আইন বনাম ধর্মীয় ঐতিহ্য
বিতর্কের সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি নোটিশকে কেন্দ্র করে। এই প্রসঙ্গে এজেইউপি প্রধান হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের গোমাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করে সরকার নিয়ম করতেই পারে, কিন্তু কোরবানি আটকানো যাবে না। তিনি এটিকে ১৪০০ বছরের পুরোনো ধর্মীয় ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করে জানান, পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত এই প্রথা চালু থাকবে।
অন্যদিকে, এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে স্বামী সতীশাচার্য জি মহারাজ অভিযোগ করেছেন, হুমায়ুন কবীর মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করছেন এবং রাজ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভেদের রাজনীতি ছড়াচ্ছেন। হুমায়ুন কবীরকে কোরান বা হাদিস শিক্ষা বর্জিত ব্যক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়ে সাধু দাবি করেন, এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্যকারীদের ফাঁসি হওয়া উচিত। একই সাথে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সনাতন ধর্মের এই দেশে গরুর গায়ে হাত দেওয়া বরদাস্ত করা হবে না এবং এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
সম্প্রীতি রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের পাল্টাপাল্টি অনমনীয় অবস্থান রাজ্যের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলার জন্য বড়সড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। একদিকে প্রাচীন ধর্মীয় রীতিনীতির দোহাই দিয়ে সরকারি আইনকে অমান্য করার প্রবণতা, অন্যদিকে উসকানিমূলক বক্তব্যের বিপরীতে ফাঁসির মতো চরম শাস্তির দাবি সমাজে মেরুকরণ ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে উসকে দেয়। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই বিষয়ে কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে, এই বিতর্ক ভবিষ্যতে বড় কোনো সামাজিক অশান্তির রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।