অবসর ভেঙে বিশ্বকাপে ফিরছেন ৪০ বছরের নয়্যার, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গোলপোস্টে আবার সেই চেনা প্রাচীর!

অবসর ভেঙে বিশ্বকাপে ফিরছেন ৪০ বছরের নয়্যার, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গোলপোস্টে আবার সেই চেনা প্রাচীর!

বিশ্বকাপের দল ঘোষণায় ফুটবল বিশ্বকে এক মহাবিস্ময় উপহার দিল জার্মানি। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার অবসর ভেঙে আবারও জাতীয় দলে ফিরছেন। ৪০ বছর বয়সে এসেও দেশের জার্সিতে গোলপোস্ট সামলানোর গুরুদায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি। জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত ফুটবল দুনিয়ায় বড় চমক তৈরি করেছে। সব ঠিক থাকলে এটি হতে যাচ্ছে নয়্যারের ক্যারিয়ারের পঞ্চম বিশ্বকাপ।

২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পেছনে অন্যতম নায়ক ছিলেন গোল্ডেন গ্লাভস জয়ী নয়্যার। তবে এর পরবর্তী দুটি বিশ্বকাপে জার্মানির পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। গত তিনটি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এবার সেই ব্যর্থতার বৃত্ত এবং দুঃস্বপ্ন কাটাতে মরিয়া জার্মান টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিজ্ঞ এই তারকাকেই বিশ্বকাপের এক নম্বর গোলকিপার হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

টের স্টেগানের চোট ও নয়্যারের প্রত্যাবর্তনের নেপথ্য কারণ

২০২৪ সালের ২১ আগস্ট জার্মানির হয়ে ১২৪টি ম্যাচ খেলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ম্যানুয়েল নয়্যার। ইউরো ২০২৪-এর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার ম্যাচটিই ছিল দেশের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ। নয়্যারের বিদায়ের পর জার্মানির এক নম্বর গোলকিপার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন বার্সেলোনার মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগান। কিন্তু সম্প্রতি টের স্টেগান গুরুতর হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ায় বড়সড় ধাক্কা খায় জার্মান শিবির। বিশ্বকাপের আগে তাঁর চোট পুরোপুরি না সারায় তীব্র চিন্তায় পড়ে যায় ম্যানেজমেন্ট। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ নয়্যারকে দলে ফেরাতে আর কোনো দেরি করেননি কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর রুডি ভোলার।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে থাকলেও ক্লাব ফুটবলে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছিলেন নয়্যার। ৪০ বছর বয়সেও ক্লাব ফুটবলে তাঁর অবিশ্বাস্য ফিটনেস, পারফরম্যান্স ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা জার্মান টিম ম্যানেজমেন্টকে আশ্বস্ত করেছে। ফলে বয়সকে পাত্তা না দিয়ে খাঁটি পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁকে পুনরায় বিশ্বমঞ্চে ফিরিয়ে আনা হলো।

তরুণ দলের মেন্টর ও বিশ্বমঞ্চে জার্মানির সম্ভাব্য প্রভাব

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে জার্মানির তরুণ ফুটবলারদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে এবং মাঠে স্থিরতা দিতে নয়্যারের উপস্থিতি টনিকের মতো কাজ করবে। একদিকে তরুণদের আগ্রাসী ফুটবল, অন্যদিকে নয়্যারের মতো পরীক্ষিত অধিনায়কের অভিজ্ঞতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই এবার বিশ্বকাপের দল সাজাচ্ছে জার্মানি। ২০১০ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া নয়্যার দলের উত্থান ও পতন দুটোই খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাই তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপের আগে জার্মান শিবিরে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।

আসন্ন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জার্মানির প্রতিপক্ষ কুরাকাও (১৪ জুন), আইভরি কোস্ট (২১ জুন) ও ইকুয়েডর (২৬ জুন)। মূল আসরে নামার আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেই নয়্যারকে সরাসরি প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। দীর্ঘদিনের ট্রফিশূন্যতা কাটিয়ে জার্মানিকে আবারও বিশ্বসেরার মুকুট এনে দেওয়াই এখন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *