বকরি ঈদে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট

বকরিদে পশু বলির ওপর কড়াকড়ি বজায় রাখল কলকাতা হাইকোর্ট
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ইদুল আজহা বা বকরিদে পশু জবাইয়ের ওপর রাজ্য সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। ১৯৫০ সালের পশু জবাই আইনের আওতায় ধর্মীয় কারণে ছাড় দেওয়ার এবং মহিষ বা বলদ জবাইয়ের অনুমতি চেয়ে দায়ের করা সব আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। তবে আগামী ২৭ ও ২৮ মে ইদ উপলক্ষে কোনো বিশেষ ছাড়ের প্রয়োজন আছে কি না, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিবেচনা করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সার্থী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।
বিতর্কের সূত্রপাত ও মামলার প্রেক্ষাপট
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং বিধায়ক আখরুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন নেতা আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী শদান ফরাসাত যুক্তি দেন যে, ১৯৫০ সালের এই আইনের ৪ নম্বর ধারাটি মূলত ধর্মীয় কোরবানির ভাবাবেগের পরিপন্থী। কারণ ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী কোরবানির জন্য একটি সুস্থ ও সচ্ছল পশুর প্রয়োজন হয়, কোনো বৃদ্ধ বা অসুস্থ পশু উৎসর্গ করা যায় না। এই নতুন নিষেধাজ্ঞা গ্রামীণ অর্থনীতি এবং ধর্মীয় রীতিনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা দাবি করেন।
সরকারি নির্দেশনার কঠোর নিয়ম
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে যেকোনো ষাঁড়, বলদ, গাভী, বাছুর বা মহিষ কোরবানি দেওয়ার আগে পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক। সরকারি নিয়মে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কেবল ১৪ বছরের বেশি বয়সী অথবা চোট, বার্ধক্য ও কোনো মারাত্মক লাইলাজ রোগের কারণে স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে পড়া পশুদেরই জবাইয়ের উপযোগী বলে গণ্য করা হবে। ইসলামি শরিয়ত মতে যেখানে নিখুঁত পশু কোরবানির বিধান রয়েছে, সেখানে সরকারের এই বিকলাঙ্গ পশুর নিয়ম এক বড় ধর্মীয় সংকটের তৈরি করেছে।
এক ঝলকে
- বকরিদে কোরবানির ওপর রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধের নির্দেশনাই বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট।
- ইসলামি নিয়মের বিপরীতে কেবল ১৪ বছরের বেশি বয়সী বা স্থায়ীভাবে বিকলাঙ্গ পশুর ক্ষেত্রেই ফিটনেস সার্টিফিকেট সাপেক্ষে জবাইয়ের অনুমতি মিলবে।
- তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রসহ অন্যান্য আবেদনকারীদের সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার আবেদন খারিজ করেছে আদালত।
- ইদ উপলক্ষে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো বিশেষ ছাড়ের প্রয়োজন আছে কি না, তা রাজ্য সরকারকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।