ব্যর্থতার গ্লানি মুছে এবার কি বৈরাগী পিকে! বিলাসবহুল বাংলো ছেড়ে আশ্রমের পথে প্রশান্ত কিশোর

দেশের সফলতম ভোটকুশলী থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) রাজনৈতিক জীবনের প্রথম নির্বাচনী পরীক্ষাটি একেবারেই সুখকর হয়নি। বিহারে নিজের সদ্য গঠিত দল ‘জন সুরাজ’ নিয়ে প্রথমবার ভোটের ময়দানে নেমে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন তিনি। আর এই চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরেই যেন কিছুটা ‘বৈরাগী’ হয়ে উঠলেন একসময়ের এই কিংবদন্তি ভোট-ম্যানেজার। পাটনা বিমানবন্দরের কাছের বিলাসবহুল বাংলো ছেড়ে এবার তাঁর নতুন ঠিকানা হতে চলেছে আশ্রম।
পেশাদার ভোটকুশলী হিসেবে যার সাফল্যের হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ, সেই প্রশান্ত কিশোর বছর তিনেক আগে পেশা বদলে নামেন সক্রিয় রাজনীতিতে। বিহারের কোণায় কোণায় ঘুরে দুই বছর ধরে ‘জন সুরাজ’ অভিযানের মাধ্যমে তৈরি করেন নিজের দল। সমাজমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা এবং প্রচারের আলো কেড়ে নিলেও ভোটের বাক্সে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। নির্বাচনে মোটে সাড়ে ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে তাঁর দল, খাতা খোলেনি আসনেরও।
ব্যর্থতার ধাক্কা ও চেনা বৃত্তে ফেরা
নির্বাচনে এই বিপর্যয় প্রশান্ত কিশোরকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। ভোট মেটার পর থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে একপ্রকার দূরত্ব বজায় রাখছেন তিনি। তবে একেবারেই বসে নেই; গুঞ্জন উঠেছে, নিজের পুরনো চেনা বৃত্তেই আবার ফিরে যাচ্ছেন পিকে। ইতিমধ্যেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অভিনেতা বিজয়ের দল এবং উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিকে নেপথ্যে থেকে নির্বাচনী পরামর্শ দেওয়া শুরু করেছেন তিনি।
আশ্রমবাসের সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ কৌশল
রাজনীতির হাইভোল্টেজ ময়দান ও বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে পিকের এই আশ্রমবাসী হওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। এতদিন তিনি পাটনায় নিজের দলের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় সিংয়ের বাংলোয় থাকতেন। তবে বৃহস্পতিবার থেকে তিনি পাটনার নিকটবর্তী নবনির্মাণ আশ্রমে থাকা শুরু করছেন। পিকে জানিয়েছেন, বিহারের আগামী বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত তিনি এই আশ্রমেই কাটাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আশ্রমবাস আসলে প্রশান্ত কিশোরের এক নতুন কৌশল হতে পারে। প্রথম নির্বাচনের শোচনীয় পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে, মাটির কাছাকাছি থেকে দলের সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে সাজাতেই এই সিদ্ধান্ত। নির্বাচনী ব্যর্থতায় দল এখনই মাঠ ছাড়ছে না, বরং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই আশ্রমে বসে পরবর্তী ঘুঁটি সাজাবেন এই ঝানু রণকৌশলী।