স্বামীর শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে মুখ খোলা অপরাধ নয়, যুগান্তকারী রায় দিল হাই কোর্ট

স্বামীর শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে মুখ খোলা অপরাধ নয়, যুগান্তকারী রায় দিল হাই কোর্ট

বৈবাহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আইনি লড়াইয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, উপযুক্ত প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকলে কোনো নারী আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে স্বামীর শারীরিক অক্ষমতা বা নপুংসকতা নিয়ে মুখ খুলতেই পারেন। এটিকে মানহানিকর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। নিম্ন আদালতের একটি নির্দেশিকাকে খারিজ করে উচ্চ আদালত নির্যাতিতা নারীর অধিকারের পক্ষে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই

ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে, যখন ওই নারীর বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর দীর্ঘ দুই বছর পার হলেও স্বামীর শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাঁদের মধ্যে কোনো দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। এরই মধ্যে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে পণের দাবিতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালে ওই নারী শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা দায়ের করেন এবং সেখানে স্বামীর নপুংসকতার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওই নারীর স্বামী নিম্ন আদালতে একটি মানহানির মামলা ঠুকে দেন। তাঁর দাবি ছিল, প্রকাশ্যে ‘নপুংসক’ শব্দটির ব্যবহারে সমাজে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই মানহানি মামলার ভিত্তিতে নিম্ন আদালত ওই নারীকে একটি নোটিস পাঠায়, যাকে চ্যালেঞ্জ করে পরবর্তীতে এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই নারী।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মামলার সমস্ত দিক বিবেচনা করে এলাহাবাদ হাই কোর্ট নিম্ন আদালতের নোটিসটি খারিজ করে দেয়। উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনো নারী যদি আইনি কারণে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়েরের সময় স্বামীর অক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন, তবে তা কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। মেডিকেল নথিপত্র ও উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে একজন স্ত্রী এই দাবি করার পূর্ণ অধিকার রাখেন এবং এর ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনও জানাতে পারেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই রায়ের ফলে বৈবাহিক সম্পর্কের জটিলতায় নারীদের আইনি অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। সামাজিক লোকলজ্জা বা মানহানির মামলার ভয় কাটিয়ে নারীরা এখন থেকে নিজেদের আইনি অধিকার আদায়ে আরও সাহসের সঙ্গে সোচ্চার হতে পারবেন। একই সঙ্গে, পণের দাবিতে অত্যাচার এবং দাম্পত্য কলহের মামলায় স্বামীদের পক্ষ থেকে পাল্টা মানহানির মামলা ঠুকে দেওয়ার প্রবণতাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *