১০ দিন পর অবশেষে মুক্ত, জামিন পেলেন বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায়!

নির্বাচন চলাকালীন ইভিএম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলা পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা গর্গ চট্টোপাধ্যায় অবশেষে জামিন পেয়েছেন। শুক্রবার কলকাতার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শর্তসাপেক্ষে তাঁর এই জামিন মঞ্জুর করে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সবকটি মামলায় জামিন মেলায় দীর্ঘ ১০ দিন পর এই বাঙালি আবেগপন্থী সংগঠনের শীর্ষ নেতার জেলমুক্তিতে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট ও আইনি প্রক্রিয়া
ভোটের মরসুমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইভিএম সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে উত্তর কলকাতার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগের দ্বারস্থ হন। এর ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে দু’বার নোটিস পাঠিয়ে তলব করলেও তিনি হাজিরা দেননি। ফলস্বরূপ, গত ১২ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে পেশ করা হলে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায় এবং তাঁকে লালবাজারের লক-আপ ও পরবর্তীতে কারাগারে কাটাতে হয়। শুক্রবার কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি কলকাতার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুই হাজার টাকার বন্ডে এবং সপ্তাহে একবার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার ও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার শর্তে গর্গকে এই জামিন দেওয়া হয়েছে। ময়দান থানার পুরনো একটি মামলায় আগেই জামিন থাকায় এই রায়ের পর তাঁর মুক্তি নিশ্চিত হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সংগঠনের উচ্ছ্বাস
গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের এই জেলমুক্তির খবরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন বাংলা পক্ষের সদস্য ও সমর্থকরা। নির্বাচন পর্বে একজন পরিচিত বাঙালি জাতীয়তাবাদী মুখের এই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বেশ চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জামিন সংগঠনের কর্মীদের মনোবল যেমন চাঙ্গা করবে, তেমনই আসন্ন দিনগুলোতে সামাজিক মাধ্যমে সংবেদনশীল ও নির্বাচনী বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করবে। ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের এই মুক্তি রাজ্যের সমসাময়িক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।