ভয়াবহ তথ্য: দেশে প্রতিদিন ১৬ জন নারী পণের বলি! সবচেয়ে খারাপ দশা কোন রাজ্যের?

দেশে কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও ‘যৌতুক’ (Dowry) নামক সামাজিক ব্যাধিটি কীভাবে নারীদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, তা ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৬ জন নারী যৌতুকের লোভ এবং পারিবারিক নির্যাতনের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। সম্প্রতি ভোপালের ত্বিষা শর্মা এবং গ্রেটার নয়ডার দীপিকা নগর নামের দুই নববধূর রহস্যমৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে দুই পরিবারের পক্ষ থেকেই যৌতুকের জন্য খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মেট্রোপলিটন শহরের তালিকায় শীর্ষে দিল্লি
মেট্রোপলিটন বা বড় শহরগুলোর তালিকায় দেশের রাজধানী দিল্লি টানা পঞ্চম বছরের মতো যৌতুকজনিত মৃত্যুর ঘটনায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে। গত এক বছরে দিল্লিতে ১০৯টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং মোট ১১১ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন। আগের বছরগুলোর তুলনায় দিল্লিতে মামলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় এই সংখ্যা এখনও অনেক বেশি। দিল্লির পরেই কানপুরে ৫৪টি এবং বেঙ্গালুরুতে ২৫টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর সম্পূর্ণ বিপরীতে, দক্ষিণের দুই শহর কোচি এবং চেন্নাইতে একটিও যৌতুকজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা একটি ইতিবাচক দিক।
রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানে উত্তরপ্রদেশ সবচেয়ে এগিয়ে
রাজ্যগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশজুড়ে সবচেয়ে বেশি যৌতুক নির্যাতনের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। এই তালিকায় এর পরের স্থানগুলোতে রয়েছে বিহার এবং কর্ণাটক। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, যৌতুক নিষেধাজ্ঞা আইনের অধীনে মামলার সংখ্যা আগের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন অনুযায়ী, বিয়ের সাত বছরের মধ্যে যদি কোনো নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয় এবং মৃত্যুর আগে তিনি যৌতুকের জন্য নির্যাতিত হয়েছিলেন বলে প্রমাণিত হয়, তবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৮০ নম্বর ধারা অনুযায়ী এটিকে ‘যৌতুকজনিত মৃত্যু’ বা ‘ডাউরি ডেথ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এমনকি দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত নারী কর্মকর্তারাও এই নির্মম সামাজিক ব্যাধি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। সম্প্রতি একজন নারী সোয়াত (SWAT) কমান্ডো অফিসারকে তাঁর স্বামী যৌতুকের দাবিতে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা এই কুপ্রথার ভয়ঙ্কর রূপকে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করে এই অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়; যতক্ষণ না সমাজ এবং মানুষের মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন আসছে, ততক্ষণ এই সামাজিক অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
এক ঝলকে
- NCRB-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৬ জন নারী যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতার বলি হচ্ছেন।
- বড় শহরগুলোর মধ্যে টানা পাঁচ বছর ধরে যৌতুকজনিত মৃত্যুর তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে দেশের রাজধানী দিল্লি।
- রাজ্যভিত্তিক তালিকায় উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি যৌতুক নির্যাতনের মামলা দায়ের হয়েছে, যার পরে রয়েছে বিহার ও কর্ণাটক।
- বিয়ের ৭ বছরের মধ্যে কোনো নারীর রহস্যমৃত্যু হলে এবং যৌতুকের প্রমাণ মিললে তা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮০ নম্বর ধারায় অপরাধ বলে গণ্য হয়।