শ্রাদ্ধশান্তি শেষ, হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়লেন ‘মৃত’ ব্যক্তি! স্তম্ভিত পরিবার

শ্রাদ্ধশান্তিও শেষ, আচমকা জ্যান্ত ফিরে এলেন ‘মৃত’ ব্যক্তি! ঝাড়খণ্ডের ঘটনায় চক্ষু চড়কগাছ পরিজনদের
যাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল, রীতি-নীতি মেনে যাঁর শেষকৃত্য ও শ্রাদ্ধশান্তিও সম্পন্ন করে ফেলেছিলেন পরিজনেরা— সেই ব্যক্তিই কয়েকদিন পর হঠাৎ সশরীরে বাড়ির সামনে এসে হাজির! অলৌকিক সিনেমার মতো মনে হলেও এমনই এক হাড়হিম করা ও অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি এলাকায়। মৃত ঘোষিত ব্যক্তির আচমকা এভাবে বেঁচে ফেরার ঘটনায় পরিবার তো বটেই, পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোরগোল পড়ে গেছে।
বিয়েবাড়ি যাওয়ার নাম করে নিখোঁজ ও ‘শব্দেহ’ শনাক্তকরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে নাগাদ ৪৫ বছর বয়সী বিশ্রাম মুন্ডা নামের এক ব্যক্তি একটি বিয়েবাড়িতে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো হদিশ পাননি। ঠিক এই নিখোঁজ থাকার সময়েই, স্থানীয় একটি খালের পাশ থেকে পুলিশ এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে বিশ্রাম মুন্ডার পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহটি দেখতে যান। মৃতদেহের উচ্চতা, শারীরিক গঠন এবং মুখের অবয়ব হুবহু বিশ্রামের মতোই ছিল। এমনকি গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দারাও দেহটি দেখে বিশ্রাম মুন্ডার বলেই নিশ্চিত করেন। এরপর পুলিশি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারটি দেহ বাড়ি নিয়ে আসে এবং আদিবাসী রীতিনীতি মেনে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
কয়েকদিন পর নাটকীয় মোড়
বিশ্রাম মুন্ডার পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর গল্পে আসে এক অবিশ্বাস্য মোড়। আচমকাই বিশ্রাম মুন্ডা তাঁর মেয়ের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন। মৃত মানুষকে এভাবে জলজ্যান্ত সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রথমে তাঁর মেয়ে ও জামাই ভূত দেখার মতো আঁতকে ওঠেন এবং চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে পরে ধাতস্থ হয়ে সবাই বুঝতে পারেন যে তিনি কোনো ভূত নন, আসল বিশ্রাম মুন্ডা নিজেই।
জিজ্ঞাসাবাদে বিশ্রাম জানান, তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে কাজের খোঁজে রামগড় এলাকায় চলে গিয়েছিলেন এবং সেখানে নেটওয়ার্ক না থাকায় পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।
তাহলে দাহ করা ব্যক্তিটি কে? তদন্তে পুলিশ
বিশ্রাম মুন্ডা জীবিত ফিরে আসার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— তবে যে ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হলো, তিনি আসলে কে? এই রহস্যের জট খুলতে পুলিশ পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। প্রকৃত মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানার জন্য এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে সমাধি খুঁড়ে মৃতদেহটি পুনরুজ্জীবিত (Exhumation) করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে আসল পরিচয় জানা যায়।
এক ঝলকে
- ঝাড়খণ্ডে মৃত ভেবে আদিবাসী রীতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কয়েকদিন পর জীবিত ফিরলেন ৪৫ বছরের বিশ্রাম মুন্ডা।
- গত ১০ মে বিয়েবাড়িতে যাওয়ার নাম করে নিখোঁজ হওয়ার পর একটি খালের ধার থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত দেহকে বিশ্রাম ভেবে ভুল করেন পরিবারের লোকেরা।
- কয়েকদিন পর বিশ্রাম মুন্ডা তাঁর মেয়ের বাড়িতে হাজির হলে সত্যতা সামনে আসে; জানা যায় তিনি কাজের জন্য রামগড় গিয়েছিলেন।
- সৎকার করা দেহটি আসলে কার ছিল, তা সনাক্ত করতে পুলিশ এখন সমাধি থেকে দেহ তুলে তদন্ত শুরু করেছে।