মাঝরাতে বন্ধ ঘরে বিধবা বৌমার কীর্তি! দেখে চিৎকার শ্বশুরের, তারপর যা ঘটল…

মাঝরাতে বন্ধ ঘরে বিধবা বৌমার কীর্তি! দেখে চিৎকার শ্বশুরের, তারপর যা ঘটল…

মাঝরাতে প্রেমিকের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় বিধবা পুত্রবধূ! শ্বশুর চিৎকার করতেই ধুন্ধুমার আলিগড়ে

উত্তরপ্রদেশের আলিগড় (Aligarh) জেলা থেকে এক চাঞ্চল্যকর এবং পরকীয়া সম্পর্কের জেরে তৈরি হওয়া অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। দুই সন্তানের জননী এক বিধবা মহিলা মাঝরাতে নিজের প্রেমিককে ঘরে ডেকে আপত্তিকর অবস্থায় শ্বশুরের হাতে ধরা পড়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাঝরাতে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা এবং হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

ফেসবুকের প্রেম ও মাঝরাতের অভিসার

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলিগড়ের মহুয়াখেড়া থানা এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলার স্বামী কিছুদিন আগে মারা গেছেন। বর্তমানে দুই পুত্রসন্তানকে নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। কয়েক মাস আগে ফেসবুকের (Facebook) মাধ্যমে সোহিল নামের এক রঙের মিস্ত্রি যুবকের সাথে ওই মহিলার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গভীর প্রেমে রূপ নেয় এবং তাঁরা নিয়মিত দেখা করতে শুরু করেন।

গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ ওই মহিলা সোহিলকে নিজের শ্বশুরবাড়িতে ডেকে পাঠান। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি নিজের দুই সন্তানকে পাশের ঘরে ঘুমোতে পাঠিয়ে বাইরে থেকে দরজার শিকল তুলে দেন। এরপর অন্য একটি ঘরে তাঁরা দুজনে যখন একান্ত সময় কাটাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পাশের ঘর থেকে কিছু অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান মহিলার শ্বশুর।

আপত্তিকর অবস্থায় ধরলেন শ্বশুর, গণধোলাই প্রেমিককে

শব্দ শুনে শ্বশুরের ঘুম ভেঙে যায় এবং তিনি পুত্রবধূর ঘরের দিকে এগিয়ে যান। দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই তিনি দুজনকে অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এই দৃশ্য দেখে শ্বশুর চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের প্রতিবেশীরা লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে ছুটে আসেন।

উত্তেজিত গ্রামবাসী ঘর থেকে প্রেমিক সোহিলকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে এনে বেধড়ক মারধর (গণধোলাই) করতে শুরু করে। মারধরের পর যুবকের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে ওই মহিলার কিছু গোপন ও আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া যায়, যা দেখে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ পুলিশে খবর দেন। মহুয়াখেড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্তাক্ত যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

থানায় নাটকীয় মোড় ও যুবকের জেলহাজত

থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুরো ঘটনায় এক নাটকীয় মোড় আসে। লোকলজ্জা ও আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে ওই মহিলা হঠাৎ নিজের বয়ান বদলে ফেলেন। তিনি পুলিশের কাছে দাবি করেন যে, তিনি কোনো অপরাধ করেননি; বরং ওই যুবকই জোরপূর্বক তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে।

মহিলার এই বয়ান এবং তাঁর শ্বশুরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত যুবক সোহিলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে। এই বিষয়ে ইন্সপেক্টর যোগেন্দর সিং জানিয়েছেন, “নিযুক্ত ধারায় মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত সোহিলকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মহিলার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং মোবাইলে পাওয়া ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাইসহ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে।” ভিন্ন সম্প্রদায়ের দুই যুবকের এই সম্পর্কের জেরে এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

এক ঝলকে

  • উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে দুই সন্তানের বিধবা মা মাঝরাতে নিজের ফেসবুক প্রেমিক সোহিলকে ঘরে ডেকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়লেন।
  • ঘরের ভেতর শব্দ পেয়ে শ্বশুর দেখে ফেলায় এবং চিৎকার করায় প্রতিবেশীরা এসে প্রেমিককে গণধোলাই দেয়।
  • যুবকের মোবাইল থেকে ওই মহিলার বেশ কিছু গোপন ভিডিও উদ্ধার করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
  • লোকলজ্জার ভয়ে মহিলা বয়ান বদলে যুবকের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করায় পুলিশ সোহিলকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *