ইসরায়েলকে বাঁচাতে গিয়ে ফুরোচ্ছে আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডার! অর্ধেক মিসাইল শেষ, আতঙ্কে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া

ইসরায়েলকে বাঁচাতে গিয়ে খালি হচ্ছে আমেরিকার অস্ত্রাগার! অর্ধেক মিসাইল শেষ, চরম উদ্বেগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নিজস্ব আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (Missile Defense) মজুত নিয়ে ব্যাপক খেসারত দিতে হচ্ছে। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলকে আকাশপথে সুরক্ষা দিতে গিয়ে আমেরিকার অস্ত্রাগারে থাকা অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের (Interceptor Missiles) সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন। এই পরিস্থিতি এখন এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশে আমেরিকার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক প্রভাবের ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।
আমেরিকা ছুড়েছে ৩০০-র বেশি অত্যাধুনিক মিসাইল
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুসারে, ইসরায়েলের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে আমেরিকা তাদের মজুতে থাকা ৪টি থাড (THAAD – Terminal High Altitude Area Defense) ব্যাটারির ২০০-রও বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। এর ফলে বর্তমানে আমেরিকার কাছে মাত্র ২০০টি থাড ইন্টারসেপ্টর অবশিষ্ট রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই মিসাইলগুলোর উৎপাদন গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় নতুন করে মজুত গড়ে তোলা বেশ সময়সাপেক্ষ।
এর পাশাপাশি, ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে ১০০টিরও বেশি SM-3 এবং SM-6 ইন্টারসেপ্টর মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলের চেয়ে আমেরিকা নিজেই ১২০টি বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইরানের হামলা প্রতিহত করেছে।
ইসরায়েলের চতুর কৌশল, পুরো চাপ আমেরিকার ওপর!
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ চলাকালীন ইসরায়েল অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজেদের দূরপাল্লার ‘অ্যারো’ (Arrow) এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ (David’s Sling) ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাঁচিয়ে রেখে প্রতিরক্ষার পুরো আর্থিক ও সামরিক দায়ভার আমেরিকার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। পুরো সংঘাতে ইসরায়েল তাদের নিজস্ব ‘অ্যারো’ মিসাইল ১০০টিরও কম এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ মিসাইল মাত্র ৯০টির মতো ব্যবহার করেছে। ‘স্টিমসন সেন্টার’-এর সিনিয়ির ফেলো কেলি গ্রীকো এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, “এই পরিসংখ্যান সত্যিই চোখ কপালে তোলার মতো। আমেরিকার কাছে এখন ইন্টারসেপ্টরের স্টক অত্যন্ত সীমিত।”
ঘুম উড়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার
আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়ার এই খবর এশিয়ায় মার্কিন মিত্রদেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। কারণ, এই দুই দেশ চীন এবং উত্তর কোরিয়ার ক্রমাগত পরমাণু ও ব্যালেস্টিক মিসাইলের হুমকি মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। পূর্ব এশিয়ায় যদি আকস্মিক কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে আমেরিকা নিজের ঘাটতির কারণে সেখানে তাৎক্ষণিক সামরিক সাহায্য বা ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে পারবে কি না— এই আশঙ্কায় ভুগছে টোকিও ও সিউল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
অন্য দিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সবসময় উন্মুক্ত রাখতে হবে। মার্কিন নৌবাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে এবং আমাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ ইরানে প্রবেশ করতে পারেনি।” তবে পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন, তবে আমেরিকার এই শূন্যপ্রায় অস্ত্রাগার এক মহাসংকটের জন্ম দিতে পারে।
এক ঝলকে
- ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েলের সুরক্ষায় ৩০০-র বেশি অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর মিসাইল খরচ করেছে আমেরিকা।
- পেন্টাগনের কাছে বর্তমানে মাত্র ২০০টি ‘THAAD’ ইন্টারসেপ্টর বাকি রয়েছে এবং নতুন মিসাইল উৎপাদনের গতিও বেশ ধীর।
- নিজেদের মিসাইল বাঁচিয়ে প্রতিরক্ষার পুরো চাপ আমেরিকার ওপর দেওয়ায় ইসরায়েলি কৌশলের সমালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
- আমেরিকার অস্ত্র ফুরিয়ে আসায় চীন ও উত্তর কোরিয়ার হুমকির মুখে থাকা জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।