আইএএস সন্তানদেরও কেন সংরক্ষণ, পদ্ধতির আমূল বদল নিয়ে এবার বড় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

একই পরিবারে এক প্রজন্মের বেশি সংরক্ষণ সুবিধা পাওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এক মৌলিক প্রশ্ন উঠে গেল। বাবা-মা দুজনেই সরকারি চাকরি করা সত্ত্বেও সন্তানের জন্য সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করার একটি মামলায় বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ঘুরিয়ে বর্তমান সংরক্ষণ পদ্ধতির আমূল বদলের পক্ষে সওয়াল করলেন দেশের শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা।
উদ্বেগ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
কর্নাটকের কুর্বা জনজাতির এক যুবকের দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই যুবকের বাবা-মা দুজনেই রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পরিবারের বার্ষিক আয় ১৯.৪৮ লক্ষ টাকা। ওবিসি সংরক্ষণ আইনের আওতায় সুবিধা না পাওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে উঠলে বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন তোলে, বাবা-মা দুজনেই যদি আইএএস বা উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক হন, তবে তাঁদের সন্তানরা কেন আবার সংরক্ষণের সুবিধা পাবে?
বিচারপতিরা স্পষ্ট জানান, শিক্ষা এবং আর্থিক সামর্থ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সমাজে গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পায়। এক প্রজন্ম অলরেডি সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে পড়াশোনা ও চাকরি পাওয়ার পর, তাঁদের সন্তানদের এই ব্যবস্থার বাইরে আসা উচিত। এভাবে সুযোগ চলতেই থাকলে দেশ কোনোদিন সংরক্ষণের বেড়াজাল থেকে বেরোতে পারবে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত পরিবারের সন্তানরাও অনগ্রসরতার দোহাই দিয়ে সুবিধা দাবি করায় এই আইনি ও সামাজিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এই মামলার জেরে ভবিষ্যতে ভারতের সংরক্ষণ নীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসতে পারে। বিশেষ করে ‘ক্রিমি লেয়ার’ বা উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোকে সংরক্ষণের বাইরে রাখার নিয়ম আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রকৃত অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির মানুষের কাছে সংরক্ষণের সুফল পৌঁছানোর পথ সুগম হতে পারে, অন্যদিকে প্রথম প্রজন্মের সুবিধাভোগী পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।