বারাসাতে গেরুয়া ঝড়ের নেপথ্য কারিগর, ওয়ার্ড সভাপতি থেকে যেভাবে ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠলেন সুবীর শীল!

স্বাধীনতার পর এই প্রথম বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্র দখল করেছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী সব্যসাচী দত্তকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটিতে পদ্ম ফোটানোর নেপথ্যে যিনি মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকা এক সাংগঠনিক নেতা। বারাসাত পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলতলার বাসিন্দা ও পেশায় ব্যবসায়ী সুবীর শীল এখন জেলা ছাড়িয়ে রাজ্য বিজেপির অন্দরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একসময়ের সাধারণ ওয়ার্ড সভাপতি থেকে আজ তিনি বারাসাতে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম ‘কিংমেকার’।
নেপথ্য জয়ের সুক্ষ্ম রণকৌশল
বারাসাত কেন্দ্রে বিজেপির এই প্রথম জয়ের পিছনে কাজ করেছে সুবীর শীলের দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও বুথভিত্তিক নেটওয়ার্ক। ভোটের প্রায় এক বছর আগে থেকেই শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে বুথ সংগঠন শক্তিশালী করার কাজে নেমেছিলেন তিনি। নিষ্ক্রিয় কর্মীদের দলে ফেরানো, ছোট ছোট কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় দলের উপস্থিতি বাড়ানো এবং রামনবমীর মিছিল, অন্নকূট, বস্ত্র বিতরণ ও বিজয়া সম্মিলনীর মতো সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসংযোগ নিবিড় করার কৌশল নেন তিনি। বিশেষ করে জল জমাপড়া, সাফাই বিপর্যয়, রাস্তার বেহাল দশা এবং পুরসভার নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি। একই সঙ্গে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগকে লাগাতার প্রচারের আলোয় এনে জনমানসে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্তরালের দক্ষ সংগঠক
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী ও ব্যক্তিগত সহায়ক সুবীর শীল বরাবরই অন্তরালে থেকে কাজ করতে পছন্দ করেন। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণের উপনির্বাচন থেকেই তিনি শমীক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। এবারের নির্বাচনে বারাসাত কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে সুবীরের নাম জোরালোভাবে উঠলেও, তাঁর রাজনৈতিক ‘গুরু’ শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই তিনি নিজে থেকে সরে দাঁড়ান। শুধু তাই নয়, গুরুর পক্ষে দলের কাছে সওয়াল করে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই বারাসাতকে ‘পাখির চোখ’ করে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রোড শোতেও সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে তাঁকে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর জেলা রাজনীতিতে সুবীরের গুরুত্ব ও ভাবমূর্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই বিপুল সাফল্যের পরেও তিনি অত্যন্ত সংযত। তাঁর মতে, বারাসাতের মানুষ গত ১৫ বছরের বহিরাগত বিধায়কের শাসন, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজনীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন এবং দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে তিনি কেবল নিজের দায়িত্বটুকুই পালন করেছেন।