১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, নজরে মাদার হাউস ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি!

১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, নজরে মাদার হাউস ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি!

দীর্ঘ ১৪ বছরের খরা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় পা রাখলেন কোনও মার্কিন বিদেশসচিব। চার দিনের ভারত সফরের প্রথম দিনে শনিবার কলকাতায় এসে পৌঁছান আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের পর এটিই কোনও মার্কিন বিদেশসচিবের প্রথম কলকাতা সফর। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট রুবিওর কলকাতা সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও মার্কিন কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, তিনি মাদার টেরেজা প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটির সদর দফতর ‘মাদার হাউস’ পরিদর্শনে যেতে পারেন। কলকাতা সফর শেষে আজই তাঁর দিল্লিতে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হবেন।

কূটনৈতিক গুরুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কো রুবিওর এই চার দিনের (২৩ মে থেকে ২৬ মে) সফরটি বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা নিয়ে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। কলকাতা ও দিল্লির পাশাপাশি মার্কিন বিদেশসচিবের আগ্রা ও জয়পুর সফরেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি সহযোগিতা ও কোয়াড বৈঠক

বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকট ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগের আবহে এই সফরের অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ভারত সফরে আসার আগেই রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকা বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণে জ্বালানি উৎপাদন করছে এবং ভারতকে আরও বেশি জ্বালানি রপ্তানি করতে তারা আগ্রহী। ভারতকে একটি ‘দারুণ পার্টনার’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারত যতটা জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমেরিকা ততটাই বিক্রি করতে প্রস্তুত।

পাশাপাশি, আগামী ২৬ মে অনুষ্ঠিত হতে চলা কোয়াড (QUAD) বৈঠকে অংশ নেবেন রুবিও। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওঙ্গ এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিতশু মোতেগির উপস্থিতিতে এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সংযোগ ব্যবস্থা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বড়সড় অগ্রগতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *